মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে একটি পোস্ট করেছিল যা নিয়ে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিল পাকিস্তান। এবার নিজের মুখেই সেই কথা স্বীকার করে ইসলামাবাদ। উল্লেখ্য, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পাকিস্তান এবং চিনকে ধাক্কা দিয়েছিল আমেরিকা। সেই সময় উল্লেখিত পোস্ট নিয়ে বেশ চর্চা হয়েছিল। সেই পোস্টে ভারতের মানচিত্রের অধীনে দেখানো হয়েছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, গিলগিট-বালতিস্তান এবং আকসাই চিনের এলাকাকে। এবার পাকিস্তান দাবি করল, তাদের আবেদনেই সেই পোস্ট মুছে ফেলে আমেরিকা।
এই পোস্টটাকে ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসাবে বিবেচনা করছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে সেই পোস্টটি মুছে ফেলে আমেরিকা। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, ভারতের সেই মানচিত্র পোস্ট করার পরেই আমেরিকার কাছে সেটি মুছে ফেলার জন্য অনুরোধ করেছিল পাকিস্তান। তারপরই নাকি সেই পোস্টটি মোছা হয়।
প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল আমেরিকার। বদলে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি হয়েছিল আমেরিকার। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ট্রাম্প একেক সময় একেক ধরনের মন্তব্য করেছেন। যদিও মোদী তাঁকে ফোনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভারত-পাক সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কোনও কৃতিত্ব ছিল না। এই ইস্যুতে টানাপোড়েনের মাঝেই ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা থমকে গিয়েছিল। তবে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ফের জুড়তে শুরু করেছে। এই আবহে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভারতের অধিৃকত এলাকা সমেত মানচিত্র প্রকাশ করায় মনে করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন বুঝি মোদী সরকারকে বিশেষ কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সেই ধারণা যে ভুল ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে আমেরিকা সেই পোস্ট মুছে ফেলায়। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানকে না চটাতেই কি ভারতের সেই মানচিত্র মুছে ফেলল আমেরিকা?

উল্লেখ্য, ভারত এবং আমেরিকা অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে ৬ ফেব্রুয়ারি। এই চুক্তির অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। এই নিয়ে যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি দুই দেশের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।’