মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গুরপতবন্ত সিং পান্নুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্তা। ইতিমধ্যেই তিনি দোষ স্বীকার করেছেন বলে দাবি এফবিআইয়ের। এই নিখিল নাকি এবার মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে আরও এক বড় দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (ডিইএ) বলেছিলেন যে কানাডায় নিহত খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরও তাঁর নিশানায় ছিল। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিজ্জর খুন হয়।
উল্লেখ্য, ভারত থেকে পালিয়ে কানাডার নাগরিকত্ব নিয়েছিল নিজ্জর। ২০২৩ সালের ১৮ জুনে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় হত্যা করা হয়েছিল তাকে। ভারত সরকারের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় ছিল নিজ্জরের নাম। এদি নিজ্জর খুনের পরপরই কানাডার সরকার বিনা প্রমাণে ভারতের দিকে আঙুল তুলেছিল। তবে মোদী সরকার স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়, এই খুনের সঙ্গে কোনও ভাবে জড়িত নয় তারা। এরই মাঝে মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুসারে, জেরার সময় নিখিল গুপ্তা বলেছিলেন যে তাঁর নিশানায় অনেকেই ছিল। নিজ্জর তাদের মধ্যে একজন ছিল।
এদিকে নিখিল গুপ্তা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা তিনটি অভিযোগ স্বীকার করেছেন – খুনের জন্য বরাত দেওয়া, অর্থ তছরুপ এবং খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা। এই তিন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত সম্মিলিত ভাবে সর্বোচ্চ ৪০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন নিখিল গুপ্তা। মার্কিন বিচারক ভিক্টর মারেরো আগামী মে মাসের ২৯ তারিখ এই মামলায় রায় শোনাবেন নিখিলের বিরুদ্ধে।প্রসঙ্গত, খলিস্তানি জঙ্গি গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ছকের মামলায় অভিযুক্ত নিখিল। গত ২০২৩ সাল থেকেই চেক জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। এই নিখিলের বিরুদ্ধে আমেরিকায় মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই আমেরিকা নিখিলকে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিচার সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ‘খুনের জন্য বরাত দেওয়ার’ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে আমেরিকার আদালতে। ভারত সরকারের এক এজেন্সির আধিকারিকের নির্দেশেই নাকি নিখিল এই কাজ করেন।
মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের তরফে দাবি করা হয়, খলিস্তানি জঙ্গিকে হত্যার জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের রফা হয়েছিল। অগ্রিম বাবদ ‘আততায়ী’-কে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয়। তবে সেই ‘আততায়ী’ আদতে মার্কিন প্রশাসনেরই ‘আন্ডার কভার এজেন্ট’ ছিল। এরপরই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় মার্কিন প্রশাসন। পরে ওয়াশিংটনের অনুরোধে চেক প্রজাতন্ত্র গ্রেফতার করেছিল নিখিলকে।

ওদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছিল, বিকাশ যাদব নামে এক ‘র’ এজেন্ট নাকি পান্নুন হত্যার জন্যে একটি ‘হিট টিমকে’ টাকা দিয়েছিলেন নিখিল। এমনকী রিপোর্টে এও দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় নাকি অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন ‘র’ প্রধান সমন্ত গোয়েল। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজি ডোভাল বিষয়টি জানতেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদন খারিজ করে ভারত। এই সবের মাঝেই বিকাশ যাদব নামে এক প্রাক্তন সরকারি কর্মীর নামে ‘ওয়ান্টেড পোস্টার’ জারি করেছিল এফবিআই।