প্রায় বছরখানেক ধরেই ফিল্মি পার্টিতে বাবার সঙ্গে হাজির হতেন প্রসেনজিৎ-পুত্র তৃষাণজিৎ। বুম্বাদা নিজেও জানিয়েছিলেন যে, প্রথমদিকে ফুটবল নিয়ে কেরিয়ার গড়ার ইচ্ছে থাকলেও, পরবর্তীতে অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন মিশুক। আর বাবা হয়ে তিনি ছেলের সেই সিদ্ধান্তকে মান্যতাও দেন। খুব জলদিই সিনেমায় দেখা যাবে। এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থার ছবি দিয়েই কেরিয়ার শুরু করবেন প্রসেনজিৎ-পুত্র। যদিও ইতিমধ্যেই পৃথ্বী থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত তৃষাণজিৎ। যার জন্য মুম্বই ও কলকাতায় তাঁর যাতায়াত লেগেই থাকে।
তবে তৃষাণজিৎ ছাড়াও, আরও এক স্টারকিডের দিকে নজর আছে নেটপাড়ার। তিনি হলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের ছেলে অঙ্কন। মাঝেমধ্যে আজকাল অঙ্কনকে দেখা যায় টলিউড পার্টিতে মায়ের পাশে। যদিও তিনি অভিনয়ের দুনিয়ায় আসতে চান কি না, তা নিয়ে মা বা ছেলে, কেউই কখনো খোলেননি মুখ।
মা টলিউডের ‘রানি’ হলেও, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর দুই সন্তান বড় হয়েছেন সব লাইমলাইট থেকে দূরেই। কর্মসূত্রে সিঙ্গপুরের বাসিন্দা ঋতুপর্ণার স্বামী সঞ্জয় চক্রবর্তী। আর সেখানেই দুই সন্তানকে বড় করেছেন অভিনেত্রী। সদ্য বোস্টন থেকে গ্রাজুয়েশন পাশ করেছেন অঙ্কন। যে ছবি শেয়ার করে ঋতুপর্ণা লিখেছিলেন, ‘শুভেচ্ছা প্রিয় অঙ্কন, বোস্টন থেকে গ্রাজুয়েশন পাশ করার জন্য’। ছবিতে গ্রাজুয়েশন হ্যাট ও লাল জ্য়াকেটে দেখা গেল অঙ্কনকে। একপাশে ঋতুপর্ণা। ছবিতে ছিলেন ঋতুপর্ণা-র মেয়ে ও বরও।
ঋতুপর্ণা ও সঞ্জয় ছোটবেলা থেকে একে অপরের বন্ধু ছিলেন। আর সেই বন্ধুই পরবর্তীতে ভালোবাসায় পরিণত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে প্রাইভেট অ্যাকুইটি ইনভেস্টর সঞ্জয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় ঋতুপর্ণার। একেবারে বাঙালি রীতি মেনেই হয়েছিল বিয়েটা।

বিয়ের পর থেকেই লং ডিসট্যান্স বিয়েতে রয়েছেন অভিনেত্রী। কাজের সূত্রে কলকাতা আর সিঙ্গাপুরে যাতায়াত লেগেই থাকত। দুই সন্তান অঙ্কন এবং ঋষণাও সিঙ্গাপুরেই বড় হয়েছেন। কাজের বাইরের সময়টা ঋতুপর্ণা নিজেও কাটান সিঙ্গাপুরেই। এমনকী, সন্তানদের জন্মের পর, বেশ লম্বা একটা বিরতিও নিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
কেরিয়ারে ঠিক যতটা সফল ঋতুপর্ণা, ঠিক ততটাই খুশি নিজের সংসার নিয়েও। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে, বিয়ের ২৪ বছর পূর্তিতে তাই অকপটে জানিয়েছিলেন, ‘নায়িকার সঙ্গে ঘর করা খুব সহজ কথা নয়। সঞ্জয়ও একইভাবে প্রচণ্ড ব্যস্ত। তবু সে একা হাতে নিজের বাড়ি, আমার বাড়ি সামলে গেছে। তাই বলে কি মনোমালিন্য হয়নি? কথা কাটাকাটি হয়নি? রাগে-অভিমানে আমরা সাময়িক বিপরীত মেরুর বাসিন্দা হইনি?— সব হয়েছে। আবার সব মিটেও গেছে।’