আবারও প্রাণঘাতী পথ দুর্ঘটনা ঘটল সল্টলেক সেক্টর ফাইভে। প্রাণ গেল ২৫ বছরের এক তরুণীর। তাঁর নাম রজনী মাহাত। তিনি স্থানীয় একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আজ (শনিবার – ৫ এপ্রিল, ২০২৫) সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা তথ্য বলছে, অন্যান্য দিনের মতোই শনিবারও কর্মস্থলে এসেছিলেন রজনী। সকাল ১০টা নাগাদ ওয়েবেল মোড়ের কাছে একটি বাস তাঁকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে এগিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অফিসযাত্রী তথা প্রত্যক্ষদর্শীরাই একথা জানিয়েছেন।
যে বাসটি রজনীকে ধাক্কা মারে, সেটি সাঁতরাগাছি-বারাসত রুটের ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাসটি যে শুধুমাত্র রজনীকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে, তাই নয়। বাসের ধাক্কায় রজনী রাস্তায় পড়ে গেল, তাঁর মাথার উপর দিয়েই এগিয়ে যায় বাসের চাকা!
ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে বিহ্বল হয়ে পড়েন প্রত্যক্ষদর্শীরা। দুর্ঘটনার পরই রজনীকে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন পথচারীরা। রজনীকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। তাঁকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। তারা ওই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, নিহত রজনী মাহাত ধাপা মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ইতিমধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালেও পৌঁছে গিয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁরা শোকাহত। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। রজনীর দেহের ময়নাতদন্ত হয়ে গেলেই তা পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সল্টলেক সেক্টর ফাইভে পথ দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু নতুন কিছু নয়। এই অফিস পাড়ায় সর্বদাই মানুষের ভিড় থাকে। এমনকী, সপ্তাহান্তেও এখানকার বহু কর্পোরেট অফিস খোলা থাকে। ফলত, অফিসযাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ হয় না।
কিন্তু, প্রয়োজনের তুলনায় এই এলাকায় যানবাহনের আকাল বহু বছরের সমস্যা। যাঁরা এই এলাকায় বহু বছর ধরে অফিস করছেন, তাঁদের কাছে এটা চেনা ছবি। উপরন্তু, রাস্তা দিয়ে যেভাবে বাস ও অন্য়ান্য দু’চাকা কিংবা চারচাকার গাড়ি চলাচল করে, যেভাবে অফিসযাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে বাসে, গাড়িতে উঠতে বাধ্য হন, বাসগুলিতে যে বাদুড়ঝোলা ভিড় হয়, তাতে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকেই। এর আগেও এখানকার কলেজ মোড়ে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে মৃত্যুও।
দিন কয়েক আগেই এখানকার এভিরা মোড়ে পরপর চারটি গাড়ির মধ্যে ধাক্কা লাগে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন আবারও ঘটে গেল প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।