SC on WB SIR Case। ‘৮০ দিন লাগবে’ শুধু বাংলার বিচারকরা SIR-র কাজ করলে

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজের জন্য প্রয়োজন হলে ভিনরাজ্য থেকেও জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারক নিয়োগ করা যাবে। নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) শুনানির কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকেও জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা যাবে। দেওয়ানি বিচারকদেরও (কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা) এসআইআরের কাজে নিয়োগ করার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যদিও তাঁরা ভাষা বুঝতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সওয়াল করেন যে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের জুডিশিয়াল অফিসাররা বুঝতে পারবেন না বাংলা। শীর্ষ আদালত অবশ্য জানিয়েছে, এই বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। অতীতে একটা সময় একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে ওই রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসারদের ধারণা আছে বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট।

‘একজন ২৫০টি মামলার নিষ্পত্তি হলেও ৮০ দিন লাগবে’

আর সুপ্রিম কোর্ট আজ সেই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এসআইআরের শুনানি নিয়ে শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তাতে জানানো হয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসার নেই। প্রত্যেক জুডিশিয়াল অফিসার যদি ২৫০টি মামলার নিষ্পত্তি করেন, তাহলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৮০ দিনের মতো লাগবে। সেই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগেরও সবুজ সংকেত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সেইসঙ্গে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের প্রতি শীর্ষ আদালত বলেছে যে কলকতা থেকে যদি এই মর্মে কোনও আর্জি জানানো হয়, তাহলে যেন জরুরি ভিত্তিতে ও সহানুভূতির ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।

৫০ লাখের মতো কাজ পড়ে আছে

প্রাথমিকভাবে বাংলার বিচারকদের দিয়ে সেই কাজ করতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। দিনকয়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে বাংলার জুডিশিয়াল অফিসারদের এসআইআরের তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে আজ শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ৫০ লাখের মতো কাজ করতে হবে। সেই পরিস্থিতিতেই পড়শি দুই রাজ্যের বিচারকদেরও নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

এমনিতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা আছে। সুপ্রিম কোর্টও আগেরদিন সেই নির্দেশ দিয়েছিল। আজ নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হবে না সময়সীমা। ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেও প্রকাশ করা যেতে পারে সেই তালিকা। অর্থাৎ বাড়তি সময় চলে আসবে। সেই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, সেটিও ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই বেরোচ্ছে বলে ধরা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *