পাবজি খেলতে খেলতে প্রেমে পড়েছিলেন পাকিস্তানের সীমা হায়দার এবং ভারতের সচিন মীনা। সেই সীমা নেপাল হয়ে সচিনের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন। এখন তিনি সচিনের বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে ভারতেই থাকেন। এহেন সীমা ফের একবার মা হয়েছেন। সচিন মীনার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সীমা। এর ১১ মাস আগে সচিনের কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সীমা। এর আগে সীমার প্রথম স্বামীর থেকে চারটি সন্তান রয়েছে।
২০২৩ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে ৪ সন্তান নিয়ে ভারতে এসেছিলেন সীমা হায়দার। নেপালে সীমা ও সচিনের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান জন্মেছে সম্প্রতি। এরপরই ফের প্রশ্ন উঠেছে, সীমা-সচিনের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিয়ে। প্রকৃতপক্ষে, সীমা হায়দার এবং তাঁর প্রথম স্বামীর চার সন্তানরা পাকিস্তানি নাগরিক। সীমা হায়দার রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর নিজের এবং তাঁর সন্তানদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবিতে একটি পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তবে তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সচিনের সন্তানদের নাগরিকত্বও প্রশ্নের মুখে। ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের শর্তাবলীর দিকে তাকালে সীমা হায়দার ভারতে প্রবেশের সময় একটি বড় ভুল করেছিলেন। যার কারণে ভারতীয় বাবা হওয়া সত্ত্বেও দুই সন্তানের নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ।
ভারতের নাগরিকত্বের শর্তগুলি কী এবং এই মামলাটি কেন জটিল? ভারতে নাগরিকত্বের নিয়মগুলি মূলত নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর অধীনে নির্ধারিত হয়। সময়ে সময়ে তা সংশোধনও করা হয়েছে। জন্ম, দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের ভিত্তিতে ভারতে নাগরিকত্বের অনেক নিয়ম রয়েছে, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের শর্তাবলী স্পষ্ট করে দেয় যে পিতামাতার মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক কিন্তু অন্যজন অবৈধ অভিবাসী হলে সেই সন্তান ভারতের নাগরিক নন। এই অবস্থায় সচিন-সীমার সন্তানদের নাগরিকত্ব নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।

সচিন মীনা ভারতীয় হলেও সীমা হায়দার নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি যখন ভারতে এসেছিলেন, তখন তাঁর কোনও বৈধ ভিসা ছিল না এবং তাঁর দুই সন্তানের জন্মের আগে পর্যন্ত তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পাননি। ভিসা না থাকায় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তবে সীমা হায়দারের আইনজীবী এপি সিং দাবি করেছেন, সীমা এবং সচিনের সন্তানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে কোনও সমস্যা হবে না। তাঁর দাবি, ভারতে আসার আগে নেপালে সচিনকে বিয়ে করেছিলেন সীমা হায়দার। তাঁর দাবি, এই যুক্তিতে সীমা একজন ভারতীয়। তবে, যদি কোনও ভারতীয় কোনও বিদেশি মহিলাকে বিয়ে করে, তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব পান না। তার জন্য কিছু শর্ত অনুসরণ করে আবেদন করতে হয়। যার অনুমোদনের পরে তিনি নাগরিকত্ব পান।