সংসদে দেশের ৮০তম কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকারের অন্যতম প্রধান নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচি ‘লাখপতি দিদি’ যোজনাকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই আপগ্রেডের অংশ হিসেবে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কমিউনিটি পরিচালিত ‘শি-মার্ট’ (SHE-Marts) সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। অর্থাৎ আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে লাখপতি করার উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের।
এদিন নবমবার বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘এই উন্নত কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ আরও বাড়বে এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (SHGs) আরও শক্তিশালী করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লাখপতি দিদি কর্মসূচির সাফল্যের উপর ভিত্তি করে, আমি নারীদের ঋণ-সংযুক্ত জীবিকা থেকে পুরোদস্তুর উদ্যোক্তা হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করার প্রস্তাব করছি। উন্নত এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে ক্লাস্টার-স্তরের ফেডারেশনের মধ্যে সম্প্রদায়-মালিকানাধীন খুচর বিক্রয় কেন্দ্র হিসাবে’শি-মার্ট’ স্থাপন করা হবে।’ রবিবার বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’ গড়া-পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একে উন্নয়নমুখী বাজেট বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কর সহজীকরণ ও মূলধনী বিনিয়োগ-এই দুই স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আগামী অর্থনীতির রূপরেখা সাজানো হয়েছে।
‘লাখপতি দিদি’ যোজনা কী?
গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত লাখপতি দিদি যোজনার মূল লক্ষ্য গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য মহিলাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করতে সহায়তা করা হয়, যাতে তারা বছরে অন্তত ১ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যেমন, সেলাই, প্লাম্বিং, এলইডি বাল্ব তৈরি, এমনকী ড্রোন পরিচালনাও। পাশাপাশি, একাধিক জীবিকা-ভিত্তিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে উৎসাহ দেওয়া হয়, যাতে পরিবারের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি পায়।

২০২৩ সালে, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, সারা দেশের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ কোটি মহিলার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২ কোটি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি করাই তাঁর স্বপ্ন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই প্রকল্পের লক্ষ্য ও পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে, যা নারী-কেন্দ্রিক তৃণমূল উদ্যোক্তা উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই প্রতিফলন। পাশাপাশি, চলতি বছর দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রের মহিলা ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য ‘শি-মার্ট’-এর ঘোষণাকে বড় উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বিহারে এনডিএ-র জন্য বিপুল জয় এনে দিয়েছেন মহিলারা। মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতেও বিজেপির ক্ষমতা ধরে রাখতে মহিলা ভোটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আসন্ন নির্বাচনগুলিতেও জনপ্রিয় প্রকল্পের মাধ্যমে শক্তিশালী মহিলা ভোটব্যাঙ্ক দখল করা শাসক দলের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।