বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখল হাইকোর্টের রায়। ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ দিয়েছিল, সেই রায় বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। এই খবর কলকাতায় পৌঁছোনোর পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।
৬ বছর ধরে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের অনেকেই আর চাকরি করতে পারবেন না। যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাঁদেরও চাকরি ফিরে পেতে আবার বসতে হবে পরীক্ষায়। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় এই সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অনেককেই। কেউ কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, ‘দুর্নীতি না করেও দুর্নীতির দায় আমাদের ঘাড়ে নিতে হল। আমরা সৎ ভাবেই চাকরি পেয়েছিলাম। তাহলে আমাদের চাকরি বাতিল হল কেন?’ কারও বক্তব্য, ‘আমাদেরও পরিবার আছে। তাদের ভবিষ্য কী হবে? আমাদের কলঙ্কিত করা হল।’
এর ঘটনায় কেউ কেউ একেবারে চুপ করে গিয়েছেন। একটা ই কথা বলতে পারছেন, ‘কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।’ কারও কারও মানসিক অবস্থা আরও খারাপ। ক্যামেরার সামনে কাউকে বলতে শোনা গেল, ‘এর থেকে বলতে পারত যে, আপনারা সুইসাইড করে নিন, আমরা কিছু করতে পারছি না। সেটাও এর থেকে ভালো হত।’ কারও প্রশ্ন, ‘যোগ্যতার বিচারেই চাকরি পেয়েছিলাম। আমাদের পথে বসতে হল। এটা কীভাবে ঐতিহাসিক রায় হতে পারে?’ সব মিলিয়ে শোকের পরিস্থিতি এই সব শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে।
তবে শেষ পর্যন্ত অভিযোগের আঙুল উঠছে শিক্ষা দফতরের দিকেই। স্কুলসার্ভিস কমিশনের দুর্নীতির জাঁতাকলে পড়েই তাঁদের এই হাল। এমনই মনে করছেন বেশির ভাগই। কারও প্রশ্ন, ‘চুরি করল কারা, ঘুষ নিল কারা, আর শাস্তি পাচ্ছে কারা? অন্যের অপরাধের ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের মতো নিরপরাধকে।’ কেউ বলেছেন, ‘সততার কোনও দাম রইল না এই রাজ্য। আদালতে মান্যতা পেল না আমাদের নিরপরাধ হওয়ার কথা।’
কারও কারও বক্তব্য, যে রায় দেওয়া হল, সেটা মেনে নিতে পারছেন না। রায়ে বলা হয়েছে, যাঁরা অযোগ্য তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে অনেকেরই প্রশ্ন, সর্বোচ্চ আদালত মেনে নিল, কেউ কেউ যোগ্যও রয়েছেন এই ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর মধ্যে। তাহলে কেন তাঁদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে? এই প্রশ্নই তুলেছেন আন্দোলনরতদের অনেকে।
শোকের এই পরিস্থিতিতে কেউ কেউ যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে কথাও বলতে পারছিলেন না। ভেঙে পড়ছিলেন কান্নায়। একটাই কথা বার বার উঠে আসছিল তাঁদের কথায়। আইন যেখানে বলছে, একজন নিরপরাধেরও শাস্তি যেখানে কাম্য নয়, সেখানে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।