সুদীপ্তা চক্রবর্তীর আলাদা পরিচয় দেওয়ার দরকার নেই। টলিউডের অন্যতম সুঅভিনেত্রী তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে আড়াই দশকের সফর পার করে ফেলেছেন তিনি। দাপটের সঙ্গে কাজ করেছে ছোটপর্দা ও বড়পর্দায়। আজকাল তো ‘দিদিদের’ বিশেষ ফেবারিট তিনি, কারণ সান বাংলার লাখটাকার লক্ষ্মীলাভের সুবাদে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন অভিনেত্রী। সঞ্চালনাতেও নিজের ছাপ রাখছেন।
এমনিতে সুদীপ্তা ভীষণ ব্য়ক্তিগত মানুষ। নিজের পার্সোনাল লাইফকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। ১২ বছর আগে ‘উড়নচণ্ডী’ পরিচালক অভিষেক সাহার সঙ্গে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করে সুদীপ্তা। তাঁদের একমাত্র কন্যা শাহিদা নীরা। ২০১৫ সালের নভেম্বরে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সুদীপ্তা। দিন কয়েক আগে মায়ের শো লাখটাকার লক্ষ্মীলাভের মঞ্চেও পৌঁছেছিল সে।
মেয়ের নাম প্রকাশ্যে আসবার পর থেকেই নানান কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল সুদীপ্তাকে। কারণ অভিনেত্রীর মেয়ের নাম শাহিদা। নামের সঙ্গে পদবী নেই। বরং মেয়ের পুরো নাম শাহিদা নীরা।
মেয়ের মুসলিম ঘেঁষা নাম নিয়ে সুদীপ্তাকে শুনতে হয়েছে বিদ্রুপ। অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘কত লোক বলেছে ‘তোমার মেয়ে বিদেশে যেতে পারবে না’, ‘যখন বড় হবে, তখন দেশের আরও খারাপ অবস্থা হবে’, ‘কেন ওর মুসলিম নাম রাখছ?’ পাত্তা দেননি সুদীপ্তা।
নিজের এই হটকে নাম নিয়ে কিন্তু দারুণ এক্সাইটেড শাহিদা। বছরখানেক আগে এইসময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুদীপ্তা বলেছিলেন, ‘এই পদবীর বিষয়টা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ও মজা পায়। কারণ, ওর নামটা আর সকলের থেকে আলাদা।’ মেয়ে তার বাবা বা মায়ের পদবীতেই আটকে থাকুক এটা সুদীপ্তা বা অভিষেক কেউই চান না। তবে বড় হয়ে শাহিদা চাইলে চক্রবর্তী বা সাহা পদবী ব্যবহার করতেই পারে। জানান অভিনেত্রী।

সুদীপ্তা মনে করেন, মায়েরই একার দায়িত্ব নয় সন্তানকে মানুষ করা। বাবারাও সমানভাবে দায়ী, এবং প্রচুর পুরুষ এই দায়িত্ব সগৌরবে করেন। যাঁরা করেন না তাঁরা অন্যায় করেন। শাহিদাকে তিনি ও অভিষেক দুজনে মিলেই মানুষ করছেন।
অভিনয় শাহিদার রক্তে। ক্লাস ফোরের ছাত্রী শাহিদা ইতিমধ্যেই সুমন ঘোষের পরিচালনায় কাজ করে ফেলেছে। ‘সার্চিং ফর হ্যাপিনেস…’ অভিনয়ের জন্য একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে সে। সুদীপ্তা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে বড় মনের মানুষ। বড়দের সম্মান করে, দায়িত্ববোধ রয়েছে খুদের। মানুষ হিসাবে যেন মেয়ে এমনটাই থাকে এটাই প্রার্থনা সুদীপ্তার।