গত ১০ দিন ধরে ক্রমাগত চলেছে অভিযান। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে সম্পর্কিত এক নাশকতার ছকের হদিশ পেতেই গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি তৎপর হয়। পশ্চিমবঙ্গের মালদা সহ দেশের একাধিক জায়গায় ধরপাকড় চালিয়ে মোট ৮ জনকে এই নাশকতার ছকের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। কী কী উদ্ধার হয়েছে? কীভাবে চলেছে এই ধরপাকড়ের অভিযান?
দিল্লি ও কলকাতার একাধিক জায়গায় গত ৭-৮ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ ধরনের পোস্টার দেখা গিয়েছিল। সেখানে ‘কাশ্মীরকে স্বাধীন করুন’, ‘কাশ্মীরে গণহত্যা বন্ধ করুন’র মতো পোস্টার দেখা যায়। এমনই দাবি ‘এনডিটিভির’ রিপোর্টের। কাল বিলম্ব করেনি প্রশাসন। দিল্লি পুলিশের বিশেষ টিমকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ময়দানে নামে রাজধানীর পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের মালদা থেকে উমর ফারুক ও রবি উল ইসলাম নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারি শুধু বাংলাতেই হয়নি। তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর, উথুকুলি থেকেও গ্রেফতারি হয়। যে ৮ জন গ্রেফতার হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশি, বলছে রিপোর্ট।
মালদায় গ্রেফতারির পরই পুলিশ জানতে পারে ঘটনার সূত্র লুকিয়ে রয়েছে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পপুর জেলায়। মালদায় ধৃতদের ফোন থেকেই এমন হদিশ পায় পুলিশ। এরপর তামিলনাড়ুতে জোরদার ধরপাকড় চলে। জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই পোশাক কারখানায় কাজ করত এবং জাল আধার কার্ড ব্যবহার করত। তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে যে পুরো মডিউলটি বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। শাব্বির আহমেদ লোন নামে একজন হ্যান্ডলার নির্দেশনা দিচ্ছিল এই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের। সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে ভারতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে শাব্বিরকে এর আগে একবার গ্রেফতারও করা হয়েছিল। সেবার জেল থেকে বেরিয়ে শব্বির ভারত ছাড়ে আর লস্কর এ যোগ দেয়।

পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি, শব্বির তার বেস তৈরি করে বাংলাদেশে। যোগ রাখে পাকিস্তানের সঙ্গে। এদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের নজরে আসে আরও এক বাংলাদেশি হ্যান্ডেলার। বাংলাদেশি হ্যান্ডেলার সইদুল ইসলাম এখন অন্য কোনও দেশে বসবাস করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ধৃতদের মোবাইল ফোনে থাকা বেশ কিছু ছবি ও ভিডিয়ো দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় ধৃতরা কোনও অস্ত্র কিনছে বলে। এছাড়াও বহু জায়গার ছবি মোবাইলে মেলে। ফলত, নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ‘লোকেশন’ ঘিরেও সন্দেহ থাকে ধৃতদের ঘিরে। পুলিশ বলছে, এই মজিউল সম্পর্কে ‘পোস্টার’ই মূল যোগসূত্র ধরিয়ে দিয়েছে। দিল্লি পুলিশের এই তদন্ত এখনও চলছে।