‘TMC-র জন্য আটকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ’

Spread the love

দায়িত্ব নিয়েই বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু করে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা মাস বাকি। আর তার আগে বঙ্গ সাংসদদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে রাজ্যের দুর্নীতি ইস্যুকে হাতিয়ার করা লড়াইয়ের নির্দেশ দিলেন নীতিন নবীন। সেই সঙ্গে কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বৈঠক বা বড় মঞ্চে ভাষণ নয়, বিজেপি নেতাদের সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সরকারি বাসভবনে বাংলার বিজেপি সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিজেপির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতি। বৈঠকে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব, অমিত মালব্য-সহ বাংলার দায়িত্বে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে দাবি, নতুন সভাপতি হিসেবে বাংলার সাংসদদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারতেই এদিনের বৈঠক। মূলত প্রত্যেক সাংসদের থেকে তাঁদের লোকসভা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইস্যু সম্পর্কে খোঁজ নেন নবীন। কোথায় কী কী কাজ হয়েছে বা হয়নি, তা নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে নীতিন নবীন স্পষ্ট করে দেন যে, বড় বড় সভার চেয়ে এখন ‘পায়ে হেঁটে’ জনসংযোগই বেশি জরুরি। তাঁর মতে, নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে হলে মানুষের ভিড়ে মিশে যেতে হবে। সাংসদদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বড় মঞ্চের বদলে ছোট ছোট সভা এবং পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, অভাব-অভিযোগ এবং প্রত্যাশা কী, তা সশরীরে গিয়ে বুঝতে হবে। তবেই রাজনৈতিক লড়াইয়ে জেতা সম্ভব।

সংগঠন চাঙ্গা করতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার করার পরামর্শ দিয়েছেন নবীন। যাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে বিরোধীদের প্রচারের মোকাবিলা করার কৌশল বাতলে দেন তিনি। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বাধাতেই পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে না কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ- এই ইস্যুকেই আগামী নির্বাচনে হাতিয়ার করা বার্তা দেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি। এই বৈঠক থেকে পরিষ্কার যে, ছাব্বিশের লড়াইয়ে বিজেপি এবার অনেক বেশি আন্দোলননির্ভর ও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটতে চাইছে। সাংসদদের পারফরম্যান্স যে এবার সরাসরি দিল্লির কড়া নজরদারিতে থাকবে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, মঞ্চের মোহ ত্যাগ করে রাজপথকেই এখন পাখির চোখ করছে গেরুয়া শিবির।ল্লেখ্য, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর জানুয়ারির মাসের শেষ সপ্তাহেই এসেছেন বিজেপি নেতা নীতিন নবীন। সেবারও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। বলেন, ‘বাংলাকে ফের বাংলাদেশ বানাতে চাইছে। অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকানোর সরকার এখানে রয়েছে। ওরা চাইছে বাংলাকে বাংলাদেশে নিয়ে যায়। আমরা যে কোনও বলিদান দিতে প্রস্তুত, তবে কোনও ভাবেই বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে দেব না। তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রস্তুত করুন।’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিকবার বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। একশো দিনের কাজ, আবাস-সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে। পাল্টা বিজেপির তরফে থেকে ‘দুর্নীতিকে’ হাতিয়ার করা হয়েছে। বঙ্গ সাংসদদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এই ইস্যুটিকেই আরও জোরদার করলেন নীতিন নবীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *