ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই বহু দেশের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বসিয়েছিলেন। তাঁর এই বহুল আলোচিত শুল্ক নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকাতেই। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই আমদানি শুল্কের বোঝা বিদেশী কোম্পানি এবং সরকারের উপর পড়বে। তবে সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে যে এই শুল্কের প্রায় ৯০ শতাংশ বোঝা চেপেছে আমেরিকান উপভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ নিউ ইয়র্কের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি বিখ্যাত ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে অনুমান করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতিটি আমেরিকান পরিবারের উপর ১০০০ ডলার অতিরিক্ত বোঝা ছিল। আর ২০২৬ সালে এই অতিরিক্ত বোঝার পরিমাণ ১৩০০ ডলারে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের জেরে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে আমেরিকায়। এর জেরে মার্কিন বাজারে পণ্য কিনতে বেশি খসাতে হয়েছে আমেরিকানদের। আদতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে পণ্যের দাম বাড়ে। এর জেরে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। তবে এই শুল্ক শেষ পর্যন্ত সরকারকে দেন আমদানিকারক সংস্থা। এই ক্ষেত্রে আমেরিকার আমদানিারকরা ট্রাম্পের শুল্ক মেটাচ্ছে। এবং আমদানাকারকরা সেই টাকা আদায় করছেন গ্রাহকদের থেকেই। এদিকে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে যাতে নিজেদের পণ্যের চাহিদা না কমে, তার জন্য বিদেশি রফতানিকারকরা দাম সেভাবেও কমায়নি। তাই সব মিলিয়ে পকেট পুড়েছে মার্কিন নাগরিকদেরই।
এদিকে প্রকাশিত গবেষণা পত্রটি ট্রাম্পের তথাকথিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্য নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সঙ্গে এই রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপ প্রায়শই অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সত্যিকারের প্রভাব ফেলে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চিনসহ অনেক দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই শুল্ক বিদেশি সংস্থা এবং সরকার পরিশোধ করবে। তবে গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। বিশ্লেষণ অনুসারে, আমদানি করা পণ্যের উপর আরোপিত শুল্কের বেশিরভাগই মার্কিন আমদানিকারকরা পরিশোধ করেন, যার জেরে পণ্যের দাম বেড়েছে। অর্থাৎ, এই শুল্ক একভাবে অভ্যন্তরীণ করের মতো কাজ করেছে। যার প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপর পড়েছে। যদিও ট্রাম্প এখনও উলটো কথাটা বলে যাচ্ছেন। তবে তাঁর সেই সব দাবি যে মিথ্যা, তা বিশ্লেষণ করে বোঝানো হয়েছে এই রিপোর্টে।
