সরকারের প্রধান ক্রীড়া প্রকল্প ‘খেলো ইন্ডিয়া’, যা তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করে তাদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে, তা কেন্দ্রীয় বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। শনিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক বাজেটে ৩৫১.৯৮ কোটি টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বাজেট আগের বছরে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা ছিল। এই বছরে সেটি ২০০ কোটি টাকা বেশি করা হয়েছে।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কত টাকা পেল?
সর্বমোট, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৩,৭৯৪.৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়েছে। এই বরাদ্দ বৃদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আগামী এক বছরে কোনও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর যেমন অলিম্পিক্স, কমনওয়েলথ বা এশিয়ান গেমস আয়োজিত হচ্ছে না। তবে এর মধ্যে ক্রীড়াবিদ তৈরি করাই হবে ভারত সরকারের লক্ষ্য। জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য বাড়তি সহায়তা করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য সহায়তার পরিমাণ ৩৪০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ভারত বর্তমানে ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টায় রয়েছে এবং ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স কমিটির (IOC) কাছে আগ্রহপত্র জমা দিওয়া হয়েছে।
স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (SAI) বরাদ্দ বৃদ্ধি
জাতীয় ক্রীড়া ক্যাম্প পরিচালনা ও ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI)-এর জন্য বরাদ্দ ৮১৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। SAI দেশজুড়ে বিভিন্ন স্টেডিয়াম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেও রয়েছে। ডোপ টেস্টিং ও অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থাগুলোর বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাতীয় ডোপ টেস্টিং ল্যাবরেটরির জন্য বরাদ্দ ১৮.৭০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।
জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির বাজেট ২০.৩০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪.৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের জন্য প্রণোদনার বরাদ্দ কমানো হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিল (NSDF)-এ অবদান এবারও ১৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে, যা গত বছরের সমান। তবে ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রণোদনা তহবিল ৪২.৬৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩৭ কোটি টাকা করা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে ক্রীড়া সুবিধা উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ কোটি টাকা বেশি। ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের (NSS) জন্য বিশাল বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুব সমাজের চারিত্রিক ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS)-এর জন্য বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি মূলত বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও কমিউনিটি সার্ভিসের মাধ্যমে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কাজ করে।
অন্যান্য বাজেট পরিবর্তন
জাতীয় যুব ও কিশোর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং যুব হোস্টেল প্রকল্পের বরাদ্দ কিছুটা কমানো হয়েছে। বহুপাক্ষিক ক্রীড়া সংস্থা ও যুব বিনিময় কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ১১.৭০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বাজেট বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।