এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটেও বৈদেশিক সহযোগিতার জন্য অর্থ বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভুটানকে অগ্রাধিকার দিল ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভুটানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ২,১৫০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি, ইরানে চাবাহার বন্দর তৈরির জন্যও ১০০ কোটি টাকার সহযোগিতা বরাদ্দ করা হয়েছে এবারের বাজেটে।
এবারের বাজেটে বিদেশ মন্ত্রকের জন্য সব মিলিয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ২০,৫১৬ কোটি টাকা। যা শেষ রিভাইস্ড বাজেটের (২৫,২৭৭ কোটি টাকা) তুলনায় বেশ খানিকটা কম। এমনকী, তথ্য বলছে – ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও বিদেশ মন্ত্রকের বরাদ্দ এবারের থেকে বেশি (২২,১৫৪ কোটি টাকা) ছিল।
তথ্য়াভিজ্ঞ মহল বলছে, বৈদেশিক খরচে বাজেট বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ (প্রতিবেশী সর্বাগ্রে) নীতি মেনেই পদক্ষেপ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
সেই অনুসারে, বরাবর ভারতের বন্ধু হিসাবে পরিচিত ভুটানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা বাবদ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে সবথেকে বেশি। পরিমাণটা হল – ২,১৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আর্থিক সাহায্য খাতে বিভিন্ন দেশের জন্য এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে খরচ ধরা হয়েছে ৬,৭৫০ কোটি টাকা। এই টাকা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত প্রকল্পে অংশ নেওয়া হবে, সহযোগিতা করা হবে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
গত বছরই ভুটানের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার জন্য আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ ৫,০০০ কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১০,০০০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার।
এছাড়াও অন্য়ান্য যে দেশের জন্য আর্থিক সহযোগিতা বাবদ বাজেট বরাদ্দ করেছে ভারত, সেগুলি হল – নেপাল (৭০০ কোটি টাকা), মালদ্বীপ (৬০০ কোটি টাকা), মরিশাস (৫০০ কোটি টাকা), মায়ানমার (৩৫০ কোটি টাকা), শ্রীলঙ্কা (৩০০ কোটি টাকা), আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ (২২৫ কোটি টাকা), বাংলাদেশ (১২০ কোটি টাকা), আফগানিস্তান (১০০ কোটি টাকা) এবং অন্য়ান্য উন্নয়নশীল দেশ (১৫০ কোটি টাকা)।
বাংলাদেশ এবং নেপালের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট গত বছর যা ছিল, এবছরও সেটাই রাখা হয়েছে। কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কিন্তু, মালদ্বীপ, মায়ানমার, মরিশাস এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি টাকা। আবার মালদ্বীপের জন্য বাজেট বরাদ্দ এক ধাক্কায় ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।