আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান তো ইতিমধ্যেই ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করেও দিয়েছে। এরই মাঝে পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের প্রশংসা শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে। এরই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
আফগানিস্তানে হামলায় পাকিস্তানিদের প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ভালো। তাহলে কি ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান-পাক সংঘাতে হস্তক্ষেপ করবেন? এই নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হস্তক্ষেপ করতে চাই, তবে পাকিস্তানের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাদের একজন মহান প্রধানমন্ত্রী আছে। তারা ভালো। শেহবাজ শরিফ সেই দুই নেতার মধ্যে একজন, যাদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। পাকিস্তান ভালো করছে।’
এদিকে আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যালিসন এম হুকার। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান যা করেছে তা ভালো করেছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি অ্যাডভাইজরিও জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছে, বড় শহরে বসবাসকারী মানুষকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে আমেরিকা পাকিস্তানের পাশে থাকলেও ভারত আফগানিস্তানের পাশে আছে। আফগান মাটিতে পাকিস্তানের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভরত। এই নিয়ে ভারতের বক্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে পাকিস্তান আবারও অন্য দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে।’ সঙ্গে দিল্লি জানিয়ে দেয়, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতারকে পুরোপুরি সমর্থন করে ভারত।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।