বিজয় মালিয়াকে নিয়ে আইনি লড়াই দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টের একটি মামলার শুনানির সময় মালিয়ার পক্ষ থেকে যে বয়ান দেওয়া হয়েছে, তাতে তাঁর ভারতে আসার বিষয়টি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আদালতকে মালিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি এই মুহূর্তে বলতে পারছেন না যে ঠিক কবে তিনি ভারতে ফিরবেন বা আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা। কারণ আইনগত দিক থেকে তাঁর ব্রিটেন ছাড়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে মালিয়া একটা সময় ‘কিং অফ গুড টাইমস’ নামে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন।
‘কিং অফ গুড টাইমস’ থেকে পলাতক
মালিয়ার মালিকানাধীন কিংফিশার এয়ারলাইন্সের নামে বিভিন্ন ভারতীয় ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে তিনি ভারত ছেড়ে লন্ডনে চলে যান। এরপর থেকে ভারত সরকার তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আইনি লড়াই শুরু করে। লন্ডনের আদালতে মালিয়া দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে ব্রিটিশ আদালতের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও কিছু গোপন আইনি জটিলতার কারণে বিষয়টি থমকে আছে।
বম্বে হাইকোর্টে কী যুক্তি দিলেন মালিয়া?
তারইমধ্যে বম্বে হাইকোর্টে শুনানির সময় আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তি দিয়েছেন যে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট আর সক্রিয় নেই। ভারতে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমাও জানাননি মালিয়া। তিনি দাবি করেছেন যে আদালতের নির্দেশের কারণে ব্রিটেনের বাইরে যেতে পারবেন না।

ইডি ও সিবিআই কী করছে?
অন্যদিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) মালিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে তাঁর কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। ব্যাঙ্কের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাঁর শেয়ার এবং সম্পত্তি নিলামের প্রক্রিয়াও চলছে। আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে মালিয়াকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে ভারত সরকারের তরফে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি মালিয়াকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে একটি ভুল বার্তা যাবে। সাধারণ মানুষের করের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করার এই প্রবণতা বন্ধ করতে মালিয়ার প্রত্যর্পণ অত্যন্ত জরুরি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে মালিয়ার ভারতে ফেরা এখন কেবল সময়ের ওপর নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।