গুজরাটে জাগুয়ার যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিদ্ধার্থ যাদবের(Siddharth Yadav) মরদেহ শুক্রবার হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার মাজরা ভালখি গ্রামে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাহ করা হয়েছে। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সিদ্ধার্থ যাদবের মরদেহ রেওয়ারিতে আনা হয়, সেখান থেকে তার নিজের গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাতে তেরঙ্গা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু প্রাক্তন সেনাকর্মী-সহ বহু মানুষ। আইএএফ অফিসারের মৃতদেহ বহনকারী গাড়িটি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা ফুলের পাপড়ি বর্ষণ করে। শেষকৃত্যের সময় সিদ্ধার্থের বাগদত্তা সোনিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
শহিদ সিদ্ধার্থের দেহ দেখে তাঁর বাগদত্তা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘ওই বাবু তুমি আমাকে নিতে এলে না। তুমি বলেছিলে আমি তোমাকে নিতে আসবে।’ তাঁর সেই ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল রাতে জামনগর বায়ুসেনা ঘাঁটির কাছে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৮ বছরের সিদ্ধার্থ যাদবের। দুর্ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগেই বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল সিদ্ধার্থ এবং সোনিয়ার। চলতি বছরের নভেম্বরে তাঁদের বিয়ে করার কথা ছিল বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ নিজের কো-পাইলটকে বিমান থেকে ইজেক্ট করতে সাহায্য করেন। এদিকে বিমানটিতে যখন যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছিল, তখন নাকি সেটি জনবহুল এলাকার ওপরে ছিল। সেখান থেকে বিমানটিকে দূরে নিয়ে যান সিদ্ধার্থ। সেই সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্র্যাশ করে। প্রাণ হারান সিদ্ধার্থ। তবে সেই সময় যদি সিদ্ধার্থ নিজেও ইজেক্ট করে যেতেন, তাহলে বিমানটি জনবহুল এলাকায় ভেঙে পড়ত এবং অনেক সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত।
এই দুর্ঘটনায় সিদ্ধার্থের সঙ্গে উড়ানে ছিলেন মনোজ কুমার সিং। আপাতত তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পা ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ জামনগর এয়ারফিল্ড থেকে জাগুয়ার বিমানটি নিয়মিত সর্টির জন্যে উড়ে গিয়েছিল। তে টেকঅফের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। জামনগর শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সুবর্দা গ্রামের কাছে একটি খোলা মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং তাতে আগুন ধরে যায়। কো-পাইলট বেঁচে গেলেও সিদ্ধার্থ যাদব প্রাণ হারান সেই দুর্ঘটনায়।
সিদ্ধার্থ হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার মাজরা ভালখি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৭ সালে বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি এনডিএ থেকে পাশ করেছিলেন। তাঁর বাবা সুশীল কুমার একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএফ কর্মী। তাঁর ঠাকুরদা রঘুবীর সিং এবং প্রপিতামহ উভয়ই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সিদ্ধার্থের বাবা সুশীল যাদব রাত ১১টা নাগাদ কম্যান্ডিং এয়ার অফিসারের কাছ থেকে এই দুঃসংবাদটি পান। সিদ্ধার্থের বাবা বলেন, ‘আমি আমার ছেলের জন্য খুব গর্বিত; অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ হারিয়েছে সে। কিন্তু এটা আমাদের জন্যে খুব দুঃখের বিষয়। কারণ ও আমার একমাত্র ছেলে ছিল।’