মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘মিয়াঁ’ মন্তব্যে রেগে আগুন কংগ্রেসের সংখ্যালঘু নেতারা। এই আবহে দেশব্যাপী হিমন্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে হিমন্তের বিরুদ্ধে ১০০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। এখনও পর্যন্ত গুজরাতের আহমেদাবাদ এবং উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি শহরে হিমন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই মেরুকরণের রাজনীতি অসম কিংবা দেশের কোথাও মেনে নেওয়া যেতে পারে না।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছেন। হিমন্ত বলেছিলেন ভোটার তালিকা থেকে ৪ থেকে ৫ লক্ষ ‘মিয়াঁ’ ভোটারের নাম মুছে ফেলা হবে। তিনি আরও বলেছিলেন যে যদি কোনও ‘মিয়াঁ’ রিকশাচালক ৫ টাকা ভাড়া চায় তবে তাকে মাত্র ৪ টাকা দেওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দলের বিজেপি কর্মীদের সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরই সঙ্গে অনুপ্রবেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন হিমন্ত।
এরপরে জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে মুখ্যমন্ত্রী শর্মার বক্তব্যকে ‘ঘৃণামূলক ভাষণ’ বলে অভিহিত করেছে। সাংবিধানিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তি যাতে এই ধরনের মন্তব্য না করেন, তার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করার আবেদন জানানো হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ অভিযোগ করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়কে ভুল ভাবে উদ্ধৃত করেছেন এবং ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ’ ছড়াচ্ছেন। কংগ্রেস ‘whoishbs.com’ নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছে, যা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অন্যান্য অভিযোগ দায়ের করতে সহায়তা করে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, যারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এসেছেন তাদের বোঝাতে তিনি মিয়াঁ শব্দটি ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে তাঁর এই মন্তব্যগুলি তাঁর নিজের নয়, বরং অনুপ্রবেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট অতীতে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তারই প্রতিফলন।
