ওয়াকফ সংশোধনী বিলের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিহারের এনডিএ। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান এবং জিতন রাম মাঝির দলও এই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। চিরাগের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) হুইপ জারি করে তাদের সমস্ত সাংসদদের আগামী দু’দিন সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে মাঝি বলেন, ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হলে দেশের প্রতিটি মুসলিম বলবেন ‘মোদী হ্যায় টু মুমকিন হ্যায়’।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়ে ৮ ঘণ্টা আলোচনা হবে। এর আগে সংখ্যালঘু ভোটের কথা ভেবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত জেডিইউ এবং এলজেপি-আর এই বিল নিয়ে তাদের কার্ড লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মঙ্গলের সন্ধ্যায় দুই দলই হুইপ জারি করে তাদের সাংসদদের সংসদে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে বিহারের সমস্ত এনডিএ শরিক ওয়াকফ বিল নিয়ে মোদী সরকারের সাথে রয়েছে।
এদিকে হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (এইচএএম) পৃষ্ঠপোষক এবং দলের একমাত্র সাংসদ জিতন রাম মাঝি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ওয়াকফ বিলকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫ বহু রাজনৈতিক দলের স্বপ্ন ভেঙে দেবে। তাঁর কথায়, যে দলগুলি এখনও ওয়াকফ বিল নিয়ে মুসলিমদের উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে চলেছে সরকার।
অপরদিকে লোকসভায় এলজেপি-আর-এর মুখ্য সচেতক তথা জামুইয়ের সাংসদ অরুণ ভারতী তিন লাইনের হুইপ জারি করে সব সাংসদকে ২ ও ৩ এপ্রিল বিধানসভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় দলের পাঁচ সংসদ সদস্যকে সরকার পক্ষকে সমর্থন দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে জেডিইউ এবং বিজেপিও একই ধরনের হুইপ জারি করেছিল। প্রসঙ্গত, বিহারের আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয় করতে ওয়াকফ ইস্যুতে জেডিইউ বিজেপির বিরোধিতা করে কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। এই আবহে জোট ভাঙার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। বিশেষত, নীতীশ যখন এর আগে বারংবার এই কাজ করেছেন। তবে ওয়াকফ সংশোধনী ইস্যুতে বিহারে নিজদের ঘর গোছাতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি।