আবারও আইনি জটে আটকে যাবে না তো বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) প্রদানের বিষয়টি? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে হাতে আরও কিছুটা সময় পেয়ে যাবে রাজ্য সরকার? পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ নিয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হওয়ার পরই সেই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মনে।
কোনও আইনি জটিলতা তৈরি করা হবে, দাবি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের
যদিও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ দাবি করেছেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে অবিলম্বে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই টাকা দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের তরফে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সেজন্যই সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাতে কোনওরকম আইনি জটিলতা তৈরি হবে না বলে দাবি করেছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক।
কী যুক্তি পেশ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতার?
নিজের দাবির স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টই নির্দেশ দিয়েছিল যে অবিলম্বে বকেয়া ডিএয়ের ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই অর্থ দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তার প্রেক্ষিতেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। অর্থাৎ আদালত অবমাননার যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেটা বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ সংক্রান্ত। ফলে কোনওরকম আইনি জটিলতা তৈরি করা হবে।

২৫ শতাংশ, ৭৫ শতাংশ ও ডিএ মামলার রায়
এমনিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বকেয়া ডিএ মামলার রায়দান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেদিন শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে অবিলম্বে বকেয়া ডিএয়ের (২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা) ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি যে ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ পড়ে থাকবে, তারও একাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের তরফে কার্যত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বকেয়া ডিএ মামলার রায় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি বিচারাধীন।