পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, ‘হুমায়ুন কবির বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর রাখেননি। রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি নাটক করছেন এবং তাঁর নেতা ও সাংসদদের দিয়ে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়াচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মাটিকে হিন্দু ও মুসলমান ভাগ করার গোপন এজেন্ডা হিসেবে এই বাবরি মসজিদকে নিয়ে এসেছেন। এই ভিত্তি একটি সুচিন্তিত রণনীতির মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি কেবল বাংলায় নয়। এর জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’
প্রসঙ্গত, ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই একই তারিখে অযোধ্যার বাবরি মসজিদটি কারসেবকরা ভেঙে ফেলেছিলেন ১৯৯২ সালে। এদিকে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জেরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। বাংলা সহ দেশের বহু জায়গা থেকে লোকজন আসে। সৌদি থেকে ধর্মগুরু আসে। আশেপাশের এলাকা থেকে অনেকেই মাথায় ইট নিয়ে হাজির হয় অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্য সরকারের তরফে বাবরি মসজিদ তৈরির ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তিনি মাথা নোয়াবেন না। প্রয়োজনে শহিদ হয়ে যাবেন। কিন্তু বাবরি মসজিদ তৈরি করেই ছাড়বেন বলে দাবি করেন হুমায়ুন। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা বিধায়ক হুমায়ুন কবির এর আগে বলেন যে তিনি কোনও বেআইনি কাজ করেননি। তাঁর বক্তব্য, এ দেশে যদি মন্দির ও গির্জা নির্মাণের স্বাধীনতা থাকে, তাহলে মসজিদ নির্মাণের স্বাধীনতা আছে।’
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হুমায়ুন কবিরকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। হুমায়ুন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টও স্বীকার করেছে যে হিন্দুরা মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে তবে হিন্দুদের অনুভূতির কথা মাথায় রেখে সেখানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে সাগরদিঘিতে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে সংবিধানও আমাদের মসজিদ নির্মাণের অধিকার দিয়েছে।’

এদিকে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে চলছে বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য পাওয়া অনুদানের গণনা। হুমায়ুন দাবি করেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তিই নাকি ৮০ কোটি টাকা অনুদান দেবেন বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য। আরও বহু মানুষ টাকা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে ১১টি ট্রাঙ্কে নগদ টাকা এসেছে বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য। টাকা গুনছেন ৩০ জন মিলে। এদিকে কিউআর কোড স্ক্যান করে এখনও পর্যন্ত ৯৩ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। জমা পড়া অর্থ কোটির গণ্ডি পার করলেও, মোট কত টাকা জমা পড়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।