২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য ছিল ‘২০০ পার’। যদিও শেষ পর্যন্ত ১০০ আসনের গণ্ডিও ছুঁতে পারেনি বিজেপি। আর এবারে বিজেপির নজরে বাংলার ১৬০টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে যে সব আসনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, এমন ১৬০টি আসন ধরে ছক কষছে পদ্ম শিবির। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গে ৪৫, মধ্য বঙ্গে ৩০ ও দক্ষিণবঙ্গে ৮৫টির বেশি আসন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২৫টি আসন বিভিন্ন সামাজিক সমীকরণের কারণে বিজেপির পক্ষে অনুকূল বলে দাবি দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায়। সেই আসনগুলির মধ্যে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর আসনটিও।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন জিতেছিলেন। আর গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল সাড়ে ছয় শতাংশের বেশি। তবে বর্তমানে বিজেপি মনে করছে, যখন পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়ে, তখন পুরনো পরিসংখ্যান খুব একটা গুরুত্ব পায় না। যেহেতু রাজ্যে প্রায় সব আসনেই বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, তাই ম্যান্ডেট যাই হোক না কেন, তা পরিষ্কার হবে বলেই মনে করছে পদ্ম শিবির।
গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৪.৯১ শতাংশ ভোট পেয়ে ২১১টি আসন জিতেছিল। সেখানে বিজেপি ৩৮.১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে ৭৭টি আসন জিতেছিল। সাড়ে ছয় শতাংশ ভোটের এই পার্থক্য আসনগুলিতে একটি বড় পার্থক্য তৈরি করেছিল। এই আবে বিজেপিকে ‘পরিবর্তনের’ জন্য এই ব্যবধান কমাতে হবে। তৃণমূলের পক্ষে যাওয়া প্রায় ৩.৫ শতাংশ ভোট বিজেপিকে নিজেদের মধ্যে টানতে হবে পদ্ম শিবিরকে।
সূত্রের খবর, এ ও বি ক্যাটাগরিতে আসনগুলিকে ভাগ করেছ বিজেপি। সেই সব ক্যাটাগরি ধরে ধরে আসনগুলির ওপর বেশি মনোনিবেশ করছে বিজেপি। এবং সি ক্যাটাগরিতে কৌশলে লড়াই করবে বিজেপি। উল্লেখ্য, এ বিভাগে বিজেপির জেতা ৭৭টি আসন রয়ছে। বি ক্যাটাগরিতে প্রায় ৫০টি আসন রয়েছে। সি ক্যাটাগরিতেও প্রায় ৫০টি আসন রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত দুটি বিধানসভা ও দুটি লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলার ২৯৪ আসনের মধ্যে ১০০টি আসনে কখনও না কখনও জিতেছে বা লিড নিয়েছে বিজেপি। এই সব আসন ছাড়াও আরও সম্ভাবনাময় কিছু আসন বি এবং সি ক্যাটাগরিতে আছে। বাকি শতাধিক আসনে স্থানীয় সমীকরণে ভোটের ঘুঁটি সাজাবে বিজেপি। সূত্র বলছে যে বিজেপি প্রায় ১৬০টি আসনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে, যা তারা জিততে পারে বলে মনে করছে। এই আসনগুলিতেই দলের নেতারা সবচেয়ে বেশি প্রচার করবেন।
