সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে জোর থেকে জনমোহিনী ঘোষণা- অতীতে যে স্ট্র্যাটেজিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের ময়দানে বাজিমাত করেছেন, এবারের বাজেটেও সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। অত্যন্ত তেমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আসলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেওয়া হবে। তার আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃতীয় মমতা সরকারের শেষ বাজেট পেশ করা হচ্ছে। এটা অবশ্য পূর্ণাঙ্গ বাজেট নয়। বরং ভোট অন অ্যাকাউন্ট (অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট) পেশ করা হবে। আর ভোটের দিকে জনমোহিনী প্রকল্পের উপরই মমতা সরকার সবথেকে বেশি জোর দেবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ওই মহলের মতে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, নারী সুরক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়ে এমনিতেই চাপে আছে রাজ্য সরকার। তাতে প্রলেপ লাগানোর জন্য বড় কয়েকটি ঘোষণা করা হতে পারেও বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আর সেইসব পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে কী কী ঘোষণা হতে পারে, তা দেখে নিন।
লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যা তৃণমূলের জয়ের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ভোটের পরই প্রতিশ্রুতিও পালন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বরাদ্দ বাড়িয়েছিলেন। আপাতত জেনারেল ক্যাটেগরির মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা পান। আর তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত মহিলাদের প্রতি মাসে ১,২০০ টাকা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, মহিলাদের মন পেতে এবারের বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। কেউ-কেউ সেই অর্থ নিয়ে উপহাস করলেও সমাজের একটি অংশের মহিলাদের কাছে লক্ষ্মীর ভান্ডারের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীর ভান্ডারে অর্থের পরিমাণ বাড়বে বলেই আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠন
গত তিনবার বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভের মাত্রা কিছুটা প্রশমিত করতে আবারও ডিএ বাড়ানোর ঘোষণা করা হতে পারে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা আপাতত ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা। সেই আবহে একাংশের ধারণা, সপ্তম বেতন কমিশনেরও ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে।
যদিও বাজেট পেশের আগে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় ডিএ মামলার রায়দান আছে। পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে ৪০,০০০ কোটি টাকার মতো লাগবে বলেছিল রাজ্য সরকার। সেই পরিস্থিতিতে ডিএ মামলার রায়ের প্রভাবও বাজেটে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত ঘোষণার উপরে পড়তে পারে।
আর কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর থাকবে?
১) বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে বাজেটেও চমক দিয়ে কোনও ঘোষণা করা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
২) আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ এবং অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বা ভাতা বাড়ানো হবে কিনা, সেদিকেও নজর আছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
৩) কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া হতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে।
৪) ভোটের আগে চমক দিতে কোনও নয়া সামাজিক প্রকল্প ঘোষণা করারও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
তবে শুধু চোখ বন্ধ করে সামাজিক প্রকল্পে (স্বাস্থ্যসাথী, বাংলার বাড়ি, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প) বরাদ্দ বাড়িয়ে দিলে হবে না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ওই মহলের মতে, রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বিশেষ সুবিধার নয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে আর্থিক টানাটানি আছে। সেই পরিস্থিতিতে বুঝে-শুনে সামাজিক প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করতে হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।