বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) মামলার রায়ের পরে প্রায় এক সপ্তাহ পার হতে চলল। প্রাথমিকভাবে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় ২৫ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। সেজন্য ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ নিয়ে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কার্যত কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারইমধ্যে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে যে ২৪ ঘণ্টার বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে, সেটার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন।
বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে হাজির থাকতে হবে বৃহস্পতিবার
রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে বৃহস্পতিবার সমস্ত সরকারি অফিস খোলা থাকবে। আর প্রত্যেক রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে হাজির থাকতে হবে। তাঁরা ক্যাজুয়াল লিভ নিতে পারবেন না। প্রথমার্ধে বা দ্বিতীয়ার্ধে বা পূর্ণ দিবস ছুটি মিলবে না বলে রাজ্য সরকারে তরফে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে। তারপরও যদি কেউ ছুটি দেন, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজ্য সরকার।
কোন কোন ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে?
তবে চারটি ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে উপস্থিত হতে হবে না বলে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সেই ছাড় মিলবে, তা দেখে নিন –
১) রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা যদি হাসপাতালে ভরতি থাকেন।
২) পরিবারে কারও মৃত্যু হলে।
৩) ১১ ফেব্রুয়ারির আগে থেকেই যদি গুরুতর অসুস্থ থাকেন এবং ছুটিতে থাকেন।৪) চাইল্ড কেয়ার লিভ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মেডিক্যাল লিভ এবং আর্নড লিভ যাঁরা নিয়েছেন, তাঁদের ছুটি যদি ১১ ফেব্রুয়ারির আগে অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে সমস্যা হবে না।

বৃহস্পতিবার অনুপস্থিত থাকলে কী ব্য়বস্থা নেওয়া হবে?
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা বৃহস্পতিবার অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের শো-কজ নোটিশ জারি করা হবে। জানতে চাওয়া হবে যে কেন ছুটি নিয়েছেন। যদি তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হয়, তাহলে সেদিনের বেতন পাবেন না সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। আর যাঁরা শো-কজ নোটিশের জবাব দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ করা হবে।