পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন, রবিবার পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় যে ওএমআর শিট দেওয়া হয়েছে, তার কার্বন কপিতে সিরিয়াল নম্বর ছিল না। ওএমআর শিটেও নম্বর দেওয়া ছিল না। কার্বন কপি দেওয়া হয়নি প্রার্থীদের। কার্বন কপি না দেওয়ার অর্থ হল যে প্রার্থীদের হাতে কোনও প্রমাণ থাকল না। কার্বন কপিতে সিরিয়াল নেই মানে যে কোনও সেটি পালটে দেবে। যাকে পাশ করাবে, তার কার্বন কপিতে বেশি নম্বর দিয়ে দেবে। আইনের হাত থেকে বাঁচতে নাটক করে কার্বন কপি দেওয়া হয়েছিল। কার্বন কপি বোর্ডের কাছে কেন থাকবে? সেটা প্রার্থীদের কাছে থাকবে।
সেই রেশ ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘দলমত, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চাকরি পাওয়া যাবে না, চাকরি তিনি দেবেন না। চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতি হবে। যতক্ষণ না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবাই মিলে নো ভোট টু মমতা করে সরানো যাচ্ছে, ততক্ষণ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা, যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীরা, স্বপ্ন দেখা যুবক-যুবতীদের কোনও সুরাহা ও সমাধান নেই।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাকরির পরীক্ষা হবে, তাতে চুরি ও দুর্নীতি হবে না, এটা তো হতে পারে না? এটা তো একদম প্রমাণিত সত্য। ’
এমনিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জর্জরিত হয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমনকী স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) দুর্নীতি মামলায় প্রায় ২৬,০০০ চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলা উঠেছিল। সেইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে একজনও দাগি অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া যাবে না। দিনকয়েক আগে একই কথা বলেছিল হাইকোর্ট। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে কারও নাম যদি দাগি অযোগ্যদের তালিকায় থাকে, তাহলে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থী হলেও নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। আর বুধবার সুপ্রিম কোর্টও প্রত্যেক দাগি অযোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কথা বলল।

তবে অভিজ্ঞতার জন্য যে প্রার্থীদের ১০ নম্বর দেওয়া হচ্ছে, সেটা বাতিল করতে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও রায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বরং সেই বিষয়টির পাশাপাশি এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। তারপর শুক্রবার হাইকোর্টে এসএসসি মামলা ওঠে। আজও হাইকোর্টে শুনানি আছে এসএসসি মামলার।