এসআইআরে অবৈধ ভোটারদের তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সঙ্গে এইআরও এবং ইআরও-র বিরুদ্ধেও মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে। জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান শাহজাহান মোল্লা নাকি এসআইআর শুনানি নিয়ে মাইক্রো অবজার্ভারকে হুমকি দেন। এদিকে সেই ঘটনায় আঙুল উঠেছে ইআরও-র দিকেও।
মাইক্রো অবজার্ভারের দাবি, শুনানির পরেও দেখা যায় অনেক ভোটারের নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে। সেই সব অসঙ্গতি খতিয়ে দেখে মাইক্রোআবজারভার তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে ইআরও এবং শাহজাহানের হুঁশিয়ারি, নথি ও তথ্য যাচাই ছাড়াই সবাইকে ভোটার তালিকায় রেখে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিককে নাকি এই তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘এত চেকিং কীসের? পাস করিয়ে দিন। তা না হলে ক্ষতি হয়ে যাবে।’ এদিকে আরও অভিযোগ, বৈঠক ডেকে নাকি মাইক্রো অবজার্ভারদের হুমকি দিয়েছেন ভাঙড়ের বিডিও।
এদিকে অন্য এক ঘটনায় বারুইপুরে নাকি এসডিও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় মাইক্রো অবজার্ভারকে বলেছেন, লজিকাল ডিসক্রেপেন্সির কেস নিয়ে বেশি নজরদারি না চালিয়ে তা পাস করিয়ে দেওয়া উচিত। এই সব ঘটনা পরে মাইক্রো অবজার্ভাররা নাকি নির্বাচন কমিশনে নালিশ করেন। এই আবহে মাইক্রো অবজার্ভারদের বিডিও অফিস থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, কীভাবে ইআরও বা এইআরও-রা মাইক্রো অবজার্ভারদের বিডিও অফিসে ডেকে হুমকি দিচ্ছেন?
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে ৮ হাজারের বেশি মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে এসে নাকি নাম মোছা হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে আখ্যা দেন। এদিকে নিবাচন কমিশন পালটা বলেন, রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের দিচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্য থেকে অফিসার মোতায়েন করতে হয়েছে তাদের। এরই মাঝে সুপ্রিম কোর্ট তাদের নির্দেশে জানিয়ে দেয়, ইআরও এবং এইআরও-রা নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই কারণে এসআইআরের সমসীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে এসআইআর-এর কাজে বাধা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।
