দিল্লির লালকেল্লার কাছে বোমা বিস্ফোরণের তদন্তে এক নয়া তথ্য উঠে এসেছে। গ্রেফতার হওয়া ‘জঙ্গি ডাক্তার’ মুজাম্মিল আহমেদ তদন্তকারী সংস্থাকে জানিয়েছে যে সহ-অভিযুক্ত শাহিন শাহিদ তার স্ত্রী। নেহাতই গার্লফ্রেন্ড নয়। সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরার সময় মুজাম্মিল দাবি করেছিল যে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি মসজিদে শাহিনের সঙ্গে তার নিকাহ হয়েছিল। এই বৈবাহিক সম্পর্কের দাবি এই মামলার দিকটি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যেখানে শাহিন মুজাম্মিলকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরবরাহ করেছিল। তদন্ত অনুযায়ী, শাহিন ২০২৩ সালে মুজাম্মিলকে অস্ত্র কেনার জন্য প্রায় ৬.৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। শাহিন জইশ-ই-মহম্মদের এই মডিউলকে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক কেনার জন্য ২৭ লাখ থেকে ২৮ লাখ টাকা সরবরাহ করেছিলেন।
তারইমধ্যে দিল্লি বিস্ফোরণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ি করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ সরাসরি যুদ্ধে ভারতকে হারাতে পারে না, তাই তারা জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘পাকিস্তান জানে যে তারা খোলা যুদ্ধে ভারতকে হারাতে পারবে না, তাই তারা পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা চালিয়েছে এবং দিল্লিতে সম্প্রতি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।’ তিনি দেশের সুরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন যে একটি ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউল ফাঁস করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয় ৩০০০ কেজি বিস্ফোরক। যা মুম্বই এবং দেশের অন্যান্য শহরে জঙ্গি হামলার জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
ফড়ণবীস বলেন, ‘ভারত এই বিষয়গুলো আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছে এবং অভিযান চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রতি কোণে বোমা হামলা করা। আমাদের দেশের অনেক শহর-সহ মুম্বইও তাদের নিশানায় ছিল। যখন আমাদের ভারতীয় সংস্থাগুলি এর আঁচ পায় এবং তাদের উপর সরাসরি আক্রমণ করে, তখন তারা দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের উপস্থিতি দেখায়।’ তিনি বলেন যে এই বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখার জন্য ভারতে জঙ্গি খুঁজে বের করার দায়িত্ব শাহিনের উপরে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দিল্লি বিস্ফোরণের সময় যে ডাক্তার মডিউলের পর্দা ফাঁস হয়েছে, তাতেও নাম জড়িয়েছে শাহিনের। এই শাহিন নাকি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিল জঙ্গি কার্যকলাপে। যে শাহিন আগেও একটা বিয়ে করেছিল। তবে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।