বিদায়বেলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার কথা ‘ভুলে’ গেলেন। কিন্তু ‘সেভেন সিস্টার্স’-র কথা বলতে ভুললেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। মঙ্গলবার নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণে অনুষ্ঠানের আগে সোমবার রাতের দিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউনুস দাবি করেন, বাংলাদেশের জন্য সমুদ্র নেহাতই ভৌগোলিক সীমারেখা নয়। বরং সমুদ্রই হল বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ার দরকার। এমনকী ‘সেভেন সিস্টার্স’, নেপাল এবং ভুটানকে নিয়ে ওই অঞ্চলে আর্থিক বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে বলে দাবি করেন ইউনুস।
ইউনুসের আমলে তলানিতে ঠেকেছিল বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা
যদিও তাঁর আমলে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল, তা নিয়েও নিজের ডাক পিটিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের উপরে একের পর এক অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। মব তথা উন্মত্ত জনতার নামে চালানো হয়েছে তাণ্ডব। ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে আগুন। কিন্তু সেইসব বিষয় নিয়ে বিদায়বেলায় কার্যত কুলুপ এঁটে থাকলেন ইউনুস।
জামাতকে পেপটক ইউনুসের
বরং নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় নাম না করে জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন জোটকে ‘পেপটক’ দেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, নির্বাচনে বিএনপি জেতায় তারেকদের শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাচ্ছেন। হেরে যাওয়া জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটকেও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কারণ জামাতের নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন জয়ী হতে না পারলেও অনেকের ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ ওই অংশের মানুষ তাঁদের উপরে আস্থা রেখেছেন বলে জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটকে ‘পেপটক’ দেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
তাঁর কথায়, ‘নারী ও শিশুর সুরক্ষায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, পারিবারিক হিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন এসব আইনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ সুগম করা হয়েছে। প্রিয় দেশবাসী, অভ্যুত্থান–পরবর্তী এক উত্তাল সময়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সৈন্যরা যে ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়ে বাংলাদেশে কড়া নিরাপত্তা
আর ইউনুসের সেই ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক। নয়া প্রধানমন্ত্রী এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ঢাকার তরফে জানানো হয়েছে, বিকেল চারটে নাগাদ (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান হবে। এমনিতে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় মন্ত্রিসভার। তবে সেই ধারায় এবার ছেদ পড়ছে।