‘কোনও অনুপ্রবেশকারী আধার কার্ড জোগাড় করে ফেললে, তাঁর কী ভোটাধিকার জন্মায়?’ এসআইআর মামলায় এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার মূলত সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি একটি নথি, এটি নাগরিকত্ব প্রমাণের দলিল নয়। ফলে শুধুমাত্র আধার থাকলেই ভোটাধিকার পাওয়া উচিত কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে বিশেষভাবে নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার শুনানি চলছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, ‘আধার কার্ড নাগরিকত্বের সম্পূর্ণ প্রমাণ করে না। সেই কারণেই আমরা বলেছিলাম যে এসআইআরের নথির মধ্যে একটি ডকুমেন্ট হবে আধার কার্ড। যদি কারোর নাম বাদ যায়, তাহলে তার নোটিস দিতে হবে।’ আধার আইনেও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই নথি নাগরিকত্ব বা বাসস্থানের প্রমাণ করে না। সে কথাই উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আধার বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তিকে রেশন পাওয়ার জন্য আধার কার্ড দেওয়া হলে, তাঁকে কি ভোটারও করে দেওয়া হবে? ধরুন কেউ প্রতিবেশী দেশের নাগরিক। এ দেশে শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন।’ শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিলে তাতে দেওয়া নথিগুলির সঠিকতা যাচাই করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপরই বর্তায়। নির্বাচন কমিশন কোনও ‘পোস্ট অফিস’ নয়।
এসআইআর নিয়ে আপত্তি
বর্তমানে তামিলনাড়ু, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলছে। এই প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েই চলে শুনানি। আদালত নির্বাচন কমিশনকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে বলেছে। এরপর আবেদনকারীদের জবাবের ভিত্তিতে মূল শুনানি শুরু হবে। এর আগে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল বলেন, এসআইআর সাধারণ ভোটারদের কাঁধে অযৌক্তিক বোঝা চাপাচ্ছে। অনেক ভোটারই নিরক্ষর, ফর্ম কীভাবে পূরণ করতে হয় তা জানেন না। তাঁর কথায়, ‘অনেক ভোটারই নিরক্ষর। ফর্ম পূরণ করা ভোটারদের দায়িত্ব নয়। অনেকেই নিরক্ষর। লিখতে, পড়তে জানেন না। যদি তারা ফর্ম পূরণ করতে না পারেন, তাহলে তাদের নাম বাদ পড়বে। ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, তা বৈধ বলেই গণ্য করা হবে, যতক্ষণ না রাজ্য অন্য কথা বলছে। কোনও নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে তা যুক্তিসঙ্গত ও নায্য প্রক্রিয়ায় হতে হবে।’ সিব্বল আরও বলেন, ‘আধার নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও এর উপস্থিতি মানুষের পক্ষেই যুক্তির প্রিসাম্পসন তৈরি করে। আমার আধার আছে মানে আমি এই জায়গার বাসিন্দা। আপনি সেটা খারিজ করতে চাইলে আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খারিজ করুন।’

অন্যদিকে, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন যে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া জরুরি। পঞ্চায়েত অফিস এবং সরকারি ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করেই সংশোধন করা হচ্ছে। তাই বিচার করার উপযুক্ত তথ্য আদালতের সামনে রয়েছে বলেই জানান তিনি। আজও এই মামলার শুনানি চলবে।