র‍্যাপিডো চালকের অ্যাকাউন্টে ৩৩১ কোটি টাকা পেল ED

Spread the love

দিল্লিতে র‍্যাপিডো বাইক-ট্যাক্সি চালকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৩১ কোটি টাকার হদিশ পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর সেই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ১এক্সবেট অনলাইন বেটিং সংক্রান্ত আর্থিক তছরূপের মামলার তদন্তের সময় তাঁদের নজরে এসেছে সেই বাইক চালকের অ্যাকাউন্ট। দেখা গিয়েছে যে ২০২৪ সালের ১৯ অগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে ৩৩১.৩৬ কোটি টাকা জমা পড়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার যে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটির বেশি টাকা দিয়ে মেটানো হয় একটি ‘গ্র্যান্ড ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-র খরচ। রাজস্থানের উদয়পুরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বিয়ে হয়েছিল। আর সেই বিষয়ের সঙ্গে গুজরাটের এক তরুণ রাজনীতিবিদের যোগ আছে। যে রাজনীতিবিদকে শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই বাইক-ট্যাক্সি চালকের অ্যাকাউন্টকে বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান দিয়ে টাকা লেনদেন করা হত। অথচ সে বিষয়ে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি

ওই বাইক-ট্যাক্সি চালক দিল্লির একটি সাধারণ এলাকায় দুই কামরার একটি বস্তিতে থাকেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য সারাদিন বাড়ির বাইরে থেকে বাইক ট্যাক্সি চালান। বাইক-ট্যাক্সি চালক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইডির তদন্তকারীদের বলেছিলেন যে তিনি ব্যাঙ্ক লেনদেন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বা উদয়পুরে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ নিয়ে বিবাহিত বর-কনে বা তাঁদের পরিবারকে তিনি জানেন না।

ইডি জানতে পেরেছে যে বেশ কয়েকটি অজানা সূত্র থেকে অ্যাকাউন্টে প্রচুর পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল এবং তা দ্রুত অন্য একটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো অর্থের অন্যতম উৎস অবৈধ বাজির সঙ্গে যুক্ত। সংস্থাটি এখন এই অ্যাকাউন্টে লেনদেনের উৎস খুঁজে দেখছে। সেইসঙ্গে কোন কোন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখছে ইডি।

উল্লেখ্য, ইডি সম্প্রতি বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিবিআই সম্প্রতি 1xbet তদন্তের অধীনে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান এবং সুরেশ রায়নার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি আরও অনেক ক্রিকেটার এবং সেলিব্রিটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। উল্লেখ্য, দিল্লির বাইক-ট্যাক্সি চালকের অ্যাকাউন্ট যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা একেবারেই নতুন নয়। আর্থিক অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ টাকা ট্রান্সফার করতে ব্যবহৃত হয় এরকম অ্যাকাউন্ট। যে বিষয়ে অ্যাকাউন্টের আসল মালিকের সাধারণত কোনও ধারণাই থাকে না। এই জাতীয় অ্যাকাউন্টগুলি জাল কেওয়াইসি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। কেউ-কেউ আবার কমিশনের বিনিময়ে তাদের অ্যাকাউন্ট ধার দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *