শান্তি আলোচনায় কিয়েভকে বড় কোনো ছাড় দেবে না মস্কো: ক্রেমলিন

Spread the love

রাশিয়া বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা ‘আন্তরিক’। তবে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নিজের স্বার্থ ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়েছে দেশটি। বুধবার (২৬ নভেম্বর) টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। এমন পরিস্থিতিতে মস্কোর ওপর ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদনে ইইউর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুইডেন।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভকে ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য করা হলে গোটা ইউরোপ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জার্মানি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের চুক্তি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে গত সপ্তাহে ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাব সামনে আনে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রস্তাবটি ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এই প্রস্তাবে মস্কোর স্বার্থ বেশি রক্ষা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রস্তাবটি নিয়ে গত রোববার (২৩ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের নেতারা। এরপর গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) সংযুক্ত আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেনীয় ও রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ইউক্রেন বলেছে, প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের একটি ‘সাধারণ বোঝাপড়া’ হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বলেন, ‘মূল পরিকল্পনাটি উভয় পক্ষের অতিরিক্ত মতামত নিয়ে অনেকটা সূক্ষ্মভাবে পরিমার্জন করা হয়েছে’।

তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মস্কোতে পাঠাবেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে দেখা করবেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সাথে আবারও বৈঠক করবেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, একটি অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে ট্রাম্পের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা হাতে পেয়েছে মস্কো এবং তারা এটা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া কূটনৈতিক উপায়ে ইউক্রেনে তার লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য উন্মুক্ত।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেও রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে ইউরোপ। মস্কোর ওপর ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদনে ইইউর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুইডেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হবে রুশ জ্বালানি আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হলে তা বিশ্বাসঘাতকতা হবে বলে সতর্ক করেছে জার্মানি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের চুক্তি ইউরোপকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে ফেলবে।

প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া সাফ জানিয়েছে, ইউক্রেনের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নিজের স্বার্থ ছাড়বে না মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বুধবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বলেন, আলোচনা চলছে এবং ‘প্রক্রিয়াটি বাস্তবসম্মত।’ এ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, চুক্তি হতে এখনও অনেক দূর যেতে হবে এবং মস্কো কিয়েভকে কোনো বড় ছাড় দেবে না।

রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে হওয়া আলোচনাই হবে শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তি।

যুদ্ধে বন্ধের কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যেও অব্যাহত আছে রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন।

এছাড়া সুমি–চেরনিহিভ সীমান্তে রুশ আর্টিলারি হামলায় বেশ কিছু বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, বুধবার ১৪৪টি সম্মুখ লড়াই হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। দেশটি আরো দাবি করেছে পোকরোভস্কের তাদের বিশেষ বাহিনী প্রবেশ করেছে।

বুধবার অন্তত ১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে ছয়টি বেলগোরোদ, তিনটি ব্রিয়ান্স্ক এবং একটি কুর্স্ক অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়। দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি এ ধরনের হামলার মধ্যে একটি রুশ ড্রোন মলদোভায় প্রবেশ করা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *