ইরান পরমাণু অস্ত্র বানালে একই পথে হাটতে পারে তুরস্কও

Spread the love

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং এতে আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ককেও পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পথে হাঁটতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গত সপ্তাহে সিএনএন তুর্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। যদিও তুরস্কের নিজের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত কি না, এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

ফিদান বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যে জল্পনা চলছে, সেটিও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী ফতোয়ার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করেছে, তবে অস্ত্র তৈরির পথে যায়নি।

তুরস্ক সরকার প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছে। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে স্বাগত জানায় আঙ্কারা। ফিদান বলেন, ‘সমস্যা শাসন ব্যবস্থা নয়, বরং তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত।’

তুরস্ক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে দেশটির নেতৃত্ব বহুদিন ধরে বলে আসছে, সব দেশের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থাকা উচিত।

২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়অন প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে, কিন্তু অন্যরা পারবে না।

তুরস্ক আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রটোকলেও সই করেছে, যার ফলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়।

জ্বালানি খাতে তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করছে। দেশটির প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্কুইউতে নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি রোসাটোম। এই প্রকল্পে চারটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যেগুলো ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা।

ভবিষ্যতে কৃষ্ণসাগর উপকূলের সিনোপ ও ইস্তাম্বুলের কাছে ইগ্নিয়াদায় আরও রিঅ্যাক্টর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া বা চীন এসব প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস ইলেক্ট্রিক কোম্পানি ও তুরস্কের পারমাণবিক প্রকল্পে অংশ নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *