কীভাবে এনকাউন্টারে নিকেশ মোস্ট ওয়ান্টেড লস্কর জঙ্গি?

Spread the love

LeT Terrorist Killed: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ফের বড় সাফল্য নিরাপত্তা বাহিনীর। মঙ্গলবার গভীর রাতে বুদগাম জেলার উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে (Budgam encounter) নিকেশ হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ চিনার কর্পস এ অভিযান পরিচালনা করে।

চিনার কর্পস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ কোরাগ, ইউসমার্গ এলাকার সাধারণ অঞ্চলে যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ। গুরওয়েথ কালান এলাকায় অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা গুলি চালাতে শুরু করে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। চিনার কর্পসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সতর্ক সেনারা সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। এরপর জঙ্গিরা গুলি চালালে পাল্টা গুলির লড়াই শুরু হয় এবং তাতে এক জঙ্গি খতম হয়।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ছিল মুসা। জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় উচ্চমূল্যের বিদেশি জঙ্গি হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হতো। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, লস্কর কমান্ডার সাজিদ জাটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মুসার। পহেলগাঁও হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ লস্কর হ্যান্ডলার হিসেবে সাজিদ জাটকে চিহ্নিত করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

হাশিম মুসা কে ছিল?

হাশিম মুসা আসিফ ফৌজি ও সুলেইমান নামেও পরিচিত ছিল। মুসা পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তৈবার সদস্য ছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মুসা ভারতে অনুপ্রবেশ করে। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) প্রাক্তন কমান্ডো ছিল বলেও গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ভারতে অনুপ্রবেশের পর জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকটি হামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে মুসা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্যতম টার্গেট ছিল।

যেসব হামলায় জড়িত মুসা

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কয়েকটি হামলায় মুসা জড়িত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে—

৪ আগস্ট ২০২৩, হালান, কুলগাম: এই হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন জওয়ান নিহত হয়েছিলেন।

২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ডিকেজি অ্যামবুশ: এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর চার জওয়ান নিহত হন।

৪ মে ২০২৪, শাস্তর, পুঞ্চ: ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলায় এক জওয়ান নিহত হন।

২৪ অক্টোবর ২০২৪, বোটাপাথরি, গুলমার্গ: এই হামলায় সেনাবাহিনীর দুই জবান ও দুই বেসামরিক কুলি নিহত হন।

সাজিদ জাটের সঙ্গে যোগাযোগ

পেহেলগাঁও হামলা চালানো দলের সদস্য ছিল না মুসা। কিন্তু সাজিদ জাটের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কারণে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় লস্করের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও তা ভেঙে দিতে কাজ করা গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে মুসা গুরুত্বপূর্ণ টার্গেটে পরিণত হয়। সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুদগামে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার আগে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে মুসাকে খুঁজছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযান

নির্দিষ্ট ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তা দ্রুত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ চিনার কর্পসকে জানানো হয়। এরপর কোনও বিলম্ব না করে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ গুরওয়েথ কালান এলাকায় অভিযান শেষ হয় এবং মুসা নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি একে ম্যাগাজিন, একটি লোরা/আল্ট্রা ডিভাইস হ্যান্ডসেট, একটি লোরা/আল্ট্রা মোবাইল ডিভাইস এবং একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *