খারাপ টিভি এসেছিল। তা নিয়ে মামলা ঠুকেছিলেন একজন। আর সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে অ্যামাজনকে ১৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। শুধু তাই নয়, সুদ-সহ টিভির টাকাও ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অ্যামাজনকে (অ্যামাজন ইন্ডিয়া তথা অ্যামাজন সেলার সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড)। মুম্বইয়ের ওই জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারে না অ্যামাজনের কোনও অনলাইন সংস্থা।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অ্যামাজন থেকে একটি এলইডি টিভি অর্ডার দিয়েছিলেন অভিযোগকারী। দাম ছিল ১৬,৯৯৯ টাকা। কিন্তু যে টিভি হাতে পেয়েছিলেন, তাতে গোলযোগ ছিল। ফোন করে বা ইমেলের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে টিভি পালটে দেওয়া হবে। কিন্তু টিভিটা পালটে দেওয়া হয়নি বা টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, শেষপর্যন্ত ১৬ এপ্রিল অ্যামাজনের থেকে তাঁর কাছে একটি ইমেল এসেছিল। তাতে বলা হয়েছিল যে রিফান্ড বা রিপ্লেসমেন্টের আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে টিভি প্রস্তুতকারক সংস্থার দ্বারস্থ হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। তারপরই অন্যায্য বাণিজ্যিক নীতি এবং পরিষেবার অভাবের অভিযোগ তুলে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অ্যামাজনের তরফে সওয়াল করা হয় যে তারা নেহাতই তৃতীয় পক্ষ। বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। যে ইনভয়েস দেওয়া হয়েছিল, সেটাও বিক্রেতা দিয়েছিল। তাই এটা নেহাতই ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে লেনদেন ছিল। আর ব্যবহারের শর্তাবলীতে এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া ছিল যে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট টিভি সংস্থাই প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।যদিও অ্যামাজনের সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, একাধিকবার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও সেই কাজটা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিক্রেতা বা প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগ করারও কোনও অকাট্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি। যে সংস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনও পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তখন সেটি যে ভালো ও ব্যবহারযোগ্য, তা নিশ্চিত করারও দায়িত্ব আছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির।
