ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের গালফ তথা উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জানান, এ বিষয়ে ‘আমেরিকার পক্ষ থেকেও অনুরোধ এসেছে’ এবং ইতোমধ্যে তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এমনভাবে সাহায্য করবে যাতে তাদের নিজের প্রতিরক্ষা দুর্বল না হয় এবং এর মাধ্যমে কিয়েভ কূটনৈতিক লাভও পায়। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউক্রেন তাদের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন দিতে পারে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে চায়, যা রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কাজে লাগবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রস্তাব সম্পর্কে বলেন, ‘যেকোনো দেশের কাছ থেকে সাহায্য এলে আমি তা গ্রহণ করব।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, মিত্ররা যদি ওই সংঘাতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে ইউক্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ঘাটতি এবং তেলের দাম বাড়লে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিল শক্তিশালী হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
জেলেনস্কি ইতোমধ্যে গালফ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত। তিনি এসব দেশের সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক অবকাঠামোকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষায় ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। তখনও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছিল। মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।
জবাবে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। ইসরাইলের পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হচ্ছে।