নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের একাধিক রাজ্যে বিনামূল্যের সুবিধা কিংবা ভাতা দেওয়ার চল আছে। বিশেষত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, লাডলি বেহেনের মতো প্রকল্পে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ দেয় বহু রাজ্য। তবে এই সব প্রকল্পে রাজনৈতিক লাভ এলেও সরকারের কোষাগারে চাপ পড়ে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি প্রতিবেদনে বিনামূল্যের এই সব সুবিধা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থের মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা জিএসডিপির একটি শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সরকারের প্রয়োজনীয় এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি এই সবের জেরে প্রভাবিত না হয়। বর্তমানে রাজ্যগুলির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিএসডিপি) ২.৭ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ এই সব খাতে ব্যয় করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পৃথক রাজ্যগুলির জন্য জিএসডিপির ০.১ থেকে ২.৭ শতাংশ, যা রাজ্যগুলির নিজস্ব মোট রাজস্ব সংগ্রহের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ। এই খাতে ব্যয়ের জন্য মোট রাজস্বের এক শতাংশের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।’ এসবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব রাজ্যে মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্প রয়েছে, সেখানে মহিলারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের পরে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্যেও মহিলাকেন্দ্রিক নগদ প্রদানের প্রকল্প চালু হয়েছে। সেই সব রাজ্যে ২০২৪ সালে মহিলা ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার নাকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টও রাজ্য সরকারগুলির নগদ অর্থ প্রদানের নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য নির্বাচনের ঠিক আগে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তার সমালোচনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছিল যে এই দানের রাজনীতি বন্ধ করা প্রয়োজন। শীর্ষ আদালত বলেছিল, জনগণকে বিনামূল্যে উপহার বা নগদ দেওয়ার পরিবর্তে সরকারগুলির কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা উচিত যাতে তারা তাদের মর্যাদা এবং আত্মসম্মান অর্জন করতে পারে এবং বজায় রাখতে পারে।

শীর্ষ আদালত বলেছিল, ‘আমরা কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে তুলছি? যারা সক্ষম এবং যারা প্রান্তিক, তাদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত? একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে সরকারের প্রান্তিক মানুষদের সাহায্য করা উচিত। কিন্তু যারা সামর্থ্য রাখে, আপনি যদি তাদেরও বিনামূল্যে সুবিধা দিতে শুরু করেন, তবে এটি কি এক ধরণের তোষণ নীতি হবে না? রাজনীতিবিদদের এই সবকিছু পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এভাবে উদারতা দেখাতে থাকলে দেশের উন্নয়নে আমরা বাধাগ্রস্ত হব।