Grape Safety Tips। ‘বিষাক্ত’ আঙুর বিক্রি হচ্ছে, কীভাবে ধরবেন?

Spread the love

গরমের দিনে শীতল, রসালো আঙুর কার না ভালো লাগে? ছোট থেকে বড়—প্রায় সবারই পছন্দের তালিকায় এই ফল থাকে। আঙুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকর ফলটিই কি আপনার শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনছে তো? সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাজারজাত আঙুরের ওপর প্রলেপ হিসেবে যে রাসায়নিকের স্তর থাকে, তা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

কেন বাজারজাত আঙুর বিষাক্ত হতে পারে?

বাজারে সাধারণত আঙুরকে বেশিদিন সতেজ, সবুজ এবং চকচকে দেখানোর জন্য বিক্রেতারা নানা ধরনের রাসায়নিকের আশ্রয় নেন। লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসক ব্রিজপাল ত্যাগী জানিয়েছেন যে আঙুর দীর্ঘসময় ভালো রাখার জন্য ‘ম্যানকোজেব’ এবং ‘সাইপারমেথ্রিন’-এর মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, আঙুর যাতে দ্রুত পচে না যায়, সেজন্য সালফার-ডাই-অক্সাইড গ্যাসও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

অনেকেই আঙুরের ওপর সাদা রঙের একটি আস্তরণ দেখতে পান। আমরা অনেক সময় মনে করি এটি আঙুরের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবরণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কোনও প্রাকৃতিক উপাদান নয়, বরং এই রাসায়নিক বা মোমের স্তর। নিয়মিত এই রাসায়নিকযুক্ত আঙুর খাওয়ার ফলে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

অসচেতনতার ফল হতে পারে গুরুতর

যদি আপনি বাজার থেকে আঙুর আনার পর শুধুমাত্র সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে খেয়ে নেন, তবে সেই বিষাক্ত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ আপনার পেটে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে পেট ব্যথা, হজমের সমস্যা, বমিভাব, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির ওপরও চাপ পড়তে পারে। তাই আঙুর খাওয়ার আগে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন।

আঙুর যেভাবে পরিষ্কার করবেন- চিকিৎসকের টিপস

১) বেকিং সোডা ও জলের মিশ্রণ: একটি বড় পাত্রে জল নিন এবং তাতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। আঙুরগুলো এই মিশ্রণে অন্তত ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। বেকিং সোডা আঙুরের গায়ে লেগে থাকা কীটনাশক দূর করতে কার্যকর।

২) ভিনিগারের ব্যবহার: জলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ভিনিগার মিশিয়ে সেই মিশ্রণে আঙুরগুলো ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে ধুয়ে নিলে আঙুরের ওপরের ক্ষতিকারক স্তর অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।

৩) নুন জল: আপনি চাইলে কুসুম গরম জলে সামান্য নুন মিশিয়ে আঙুর ধুয়ে নিতে পারেন। এটি ফলের গায়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং রাসায়নিক দূর করতে সাহায্য করে।

৪) ভালোভাবে ধোয়া: সবসময় আঙুর দানাগুলো আলাদা করে ধুয়ে নিন। গুচ্ছ অবস্থায় ধুলে ভিতর পর্যন্ত জল পৌঁছায় না, ফলে নোংরা বা রাসায়নিক থেকে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *