রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে সমুদ্রেও কঠোর হচ্ছে ইউরোপ

Spread the love

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে এবার সমুদ্রেও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ইউরোপ। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সহায়তায় আটক করা হয়েছে রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। তবে রোমানিয়ার ভূখণ্ডে রুশ ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায় ন্যাটোজুড়ে উদ্বেগ ছড়ালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীরবতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

রাশিয়ার তেল রফতানি ও যুদ্ধের অর্থায়নে আঘাত হানতে এবার ভিন্ন কৌশল নিলো ইউরোপ। আটলান্টিকে রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ‘ট্যাগর’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছে ফরাসি নৌবাহিনী। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হুঁশিয়ারি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ক্রেমলিনের এই অর্থের উৎস কোনোভাবেই চলতে দেয়া হবে না।

 

সংশ্লিষ্ট জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করছিল বলে দাবি ফরাসি কর্তৃপক্ষের।
সমুদ্রে কড়াকড়ির মাঝেই আকাশপথে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ন্যাটো সীমান্তে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি একটি রুশ ড্রোন রোমানিয়ার গালাতি শহরের আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। ঘটনাটিকে ইউরোপীয় আকাশসীমার গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাসেলস বলছে, এই আগ্রাসন প্রমাণ করে ইউক্রেনকে আরও বেশি সামরিক সহায়তা দেয়া এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এখন সময়ের দাবি। 
 
 
তবে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে রুশ ড্রোন আঘাত হানার পরও, এ নিয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এই নীরবতা পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
 
বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ট্রাম্পকে প্রায়ই ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতে দেখা গেলেও, রাশিয়ার এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সেই একই কঠোরতা দেখা যাচ্ছে না তার কণ্ঠে।
 
এদিকে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন যুদ্ধ আরও ভয়াবহ করে তুলেছে রাশিয়া। মে মাসেই ইউক্রেন লক্ষ্য করে রেকর্ড ৮ হাজার ১৫০টি দূরপাল্লার ড্রোন ছুড়েছে মস্কো, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে সর্বোচ্চ। ইউক্রেন বেশিরভাগ ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করলেও, কিয়েভ সতর্ক করেছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এ কারণে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, তা আরও দীর্ঘ ও জটিল রূপ নিচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *