সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি দেখে দাবি করা হচ্ছিল, তামিলগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে)-এর প্রধান এবং অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ বিজয়, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই বেশি পরিচিত, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তবে দিল্লি পুলিশ এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিজয়কে ঘিরে রয়েছে প্রচুর মানুষ। তাঁর চারপাশে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরাও রয়েছেন। ভিডিওটির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘থালাপতি বিজয় পৌঁছেছেন দিল্লির যন্তর মন্তরে। ছাত্র আন্দোলনে কি পেল বড় সমর্থন?’ এই পোস্ট দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, বিজয় রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছে ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
কিন্তু পরে এই দাবি খারিজ করে দেয় দিল্লি পুলিশ। এক্স-এ একটি পোস্ট করে পুলিশ জানায়, ভাইরাল ভিডিওটি যন্তর মন্তরের নয়। পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এই ধরনের ভুয়ো তথ্য বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে এবং সেই ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের ন্যায়বিচারের দাবিও জানাচ্ছে সংগঠনটি।
এই আন্দোলনের সমর্থনে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিরোধী দলের একাধিক নেতা যন্তর মন্তরে গিয়েছেন। ফলে থালাপতি বিজয়কে নিয়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের ফ্যাক্ট-চেকের পর পরিষ্কার হয়েছে, ভিডিওটির সঙ্গে যন্তর মন্তরের কোনও সম্পর্ক নেই।

এদিকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাওয়া সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এখনও সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করালেও তিনি অনশন ভাঙেননি।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো জানিয়েছেন, যদি রাজনৈতিক নেতারা সফদরজং হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুককে আশ্বাস দেন যে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে, তাহলে তিনি তাঁর অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন। সব মিলিয়ে ছাত্র আন্দোলন, সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ভিডিও—এই তিনটি বিষয় ঘিরে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।