Suvendu challenges Abhishek: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্রকে ১০ কোটি টাকার আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীকে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেটার প্রেক্ষিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের (কালীঘাট) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ‘ও অনেক বড়-বড় কথা বলেছে, যেটার আমি কাউন্টার করব না। আমি শুধু একটা কথা বলে গেলাম – ওর বাপের নাম যদি ঠিক থাকে, আগামী লোকসভা ভোটে (২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন) ডায়মন্ড হারবারে লড়বে।’
শুভেন্দুকে ‘তুইতোকারি’ করেছিলেন অভিষেক
আর যে অভিষেককে এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই তৃণমূল সাংসদ অতীতে শুভেন্দুর বাবা তুলে বেলাগাম আক্রমণ করেছিলেন। ‘তুইতোকারি’ করেছিলেন বিজেপি নেতাকে। যিনি কয়েক মাস আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এমনকী অভিষেক হুংকার দিয়েছিলেন যে জামানত বাজেয়াপ্ত করে ছাড়বেন।
‘তোর বাপকে গিয়ে বল’, শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাঁথির সেই জনসভা থেকে অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘তোর বাপকে গিয়ে বল, তোর বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি! যা করার কর! আয়! হিম্মত আছে? এই মেদিনীপুরের মাটিতে, তোমার মাটিতে, তোমার পাড়ায় তোমার এলাকায় দাঁড়িয়ে তোমায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে যাচ্ছি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ’চার আনার নকুলদানা, তার আবার ক্যাশমেমো। আমায় থ্রেট দিচ্ছে!’
২০২১ সালে হুঁশিয়ারি, ২০২৬ সালে অভিষেকেরও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
সেই ঘটনার পরে জল অনেক দূর গড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। যে শুভেন্দুকে কাঁথির সভা থেকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক, তিনিই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। আর পাঁচ বছর পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে অভিষেকদের ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। মমতার ঘরে ঢুকে ভবানীপুরে হারিয়ে দিয়েছেন।

সেইসঙ্গে তৃণমূলকে উৎখাত করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু। অভিষেকের যে ডায়মন্ড হারবার মডেল ছিল, সেটাও গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের সংসদ এলাকায় বিধানসভা খুইয়েছেন অভিষেক। যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র সেই ডায়মন্ড মডেলের ‘হৃদপিণ্ড’ ছিল, সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিষেকের ডান হাত পুনর্নির্বাচনের আগে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। জাহাঙ্গীর জেলে। অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। এমনকী অভিষেক কিল, ঘুষি খেয়েছেন। ছোড়া হয়েছে ডিম।