লোকসভায় ব্যর্থতা! মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের হুঁশিয়ারি PM মোদীর

Spread the love

মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলকে সমর্থন না করার জন্য বিরোধী দলগুলোকে ‘সারা জীবন আফশোস করতে হবে।’ লোকসভায় সংবিধান (১৩১তম) সংশোধনী বিল পরাজিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেছেন, এর জন্য তাঁদের মূল্য দিতে হবে।

শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে লোকসভায় বড় ধাক্কা খেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদে বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত ‌শাহ। মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটি পাশ করাতে পারেনি সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হবে। কিন্তু বিরোধীদের বাধায় সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। ভোটাভুটিতে দেখা গিয়েছে বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোট দিয়েছিলেন। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি ভোটের। যা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। ভোটাভুটিতে বিলটি পাশ করাতে না পারায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংশ্লিষ্ঠ বিলটি নিয়ে আর না এগোনোর কথা জানিয়েছেন। এবং এই বিলগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল লোকসভায় পরাজিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক ডাকা হয়। শনিবার সকালেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই বিলকে সমর্থন না করার জন্য বিরোধী দলগুলোকে সারা জীবন আফশোস করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘বিরোধীরা দেশের মহিলাদের হতাশ করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে, প্রতিটি গ্রামে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।’ এদিকে প্রথম থেকেই বিরোধীদের বক্তব্য ছিল, মহিলা সংরক্ষণে সমর্থন জানালেও তাঁরা কোনও ভাবেই এর আড়ালে গোটা দেশের আসন পুনর্বিন্যাসে সম্মতি জানাবেন না। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল অনুযায়ী, ২০২৭–এর জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস হওয়ার কথা এবং ২০৩৪–এর লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বলবৎ হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৯ থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে আচমকাই সংবিধান সংশোধনী বিল আনে কেন্দ্র। তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ২০১১-এর জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের বিলটিও। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস করে মোদী সরকার যে আদতে গোটা দেশে নিজেদের প্রভাব আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে, সেই অভিযোগই শুরু থেকে করে আসছে বিরোধী শিবির।

মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতেই ১৬-১৮ এপ্রিল, তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিলে নির্ধারিত ভোটাভুটির কিছুক্ষণ আগে অবশ্য সব দলের সাংসদদের কাছে আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছিলেন, ‘চার দশক ধরে মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রচুর রাজনীতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবশ্যই তাঁদের অধিকার দিতে হবে। পরিবারের মহিলাদের কথা মনে রেখে, বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে ভোট দেবেন। দয়া করে নারীশক্তিকে নতুন সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত করবেন না। এই আইন দেশের মহিলাদের ক্ষমতায়ন ঘটাবে, গণতন্ত্রকে মজবুত করবে। আসুন আজ সকলে মিলে ইতিহাস সৃষ্টি করি।’ কিন্তু বিরোধীরা যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেই ডাকে সাড়া দেননি, ভোটাভুটিতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *