চোরবাগান কাণ্ডের নেপথ্যের সূত্র খুঁজছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা

Spread the love

Chorbagan pandal tragedy: চোরবাগানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পুজো মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার সময় শ্বাসরোধের কারণে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। তারপর থেকেই মণ্ডপের ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে মণ্ডপের ভিতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

ফরেন্সিক তদন্তের মূল দিকগুলি

সূত্রের খবর, পুজো মণ্ডপের ভিতরে মোট ১৩৪ টন ক্ষমতার এসি ছিল। কিন্তু ঘটনার সময় মণ্ডপে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় হয়েছিল, সেই তুলনায় এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মতে, মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে বা অল্প ভিড় হলে এই ১৩৪ টন এসি যথেষ্ট। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে যে পরিমাণ বিপুল ভিড় হয়েছিল, সেই অনুপাতে এই এসি ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা একেবারেই পর্যাপ্ত ছিল না। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মতে, মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে বা অল্প ভিড় হলে এই ১৩৪ টন এসি যথেষ্ট। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে যে পরিমাণ বিপুল ভিড় হয়েছিল, সেই অনুপাতে এই এসি-র ব্যবস্থা একেবারেই পর্যাপ্ত ছিল না। শুধু এসির ক্ষমতা নয়, মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ছিল কিনা, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনার দিন বিকেল থেকে মণ্ডপে ভিড়ের পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে ফরেন্সিক দল। নির্দিষ্ট সময়ে কত মানুষ মণ্ডপের ভিতরে ছিলেন এবং সেই ভিড়ের তুলনায় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে এলে মণ্ডপের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এই ঘটনার পরই সুরক্ষার সার্বিক দিক নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পুজোর আগে প্রশাসনিক স্তরে যখন মণ্ডপের সুরক্ষা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন করা হয়েছিল, তখন কী এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নজর এড়িয়ে গিয়েছিল? নাকি ভিড় নিয়ন্ত্রণের এই দিকটিতে ইচ্ছা করেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? অন্যদিকে, চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে গতি বাড়াতে তৎপর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। বৃহস্পতিবার চোরবাগান পৌঁছয় সিট-এর সম্পূর্ণ দল। সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তিন মাসের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ করতে চাইছে কমিটি। চোরবাগান বিপর্যয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। তবে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বেই সিট গঠনের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কমিটিতে আরও অনেকে রয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা, নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, রাজ্যের স্পেশ্যাল টাক্স ফোর্সের সচিব, ডিজি-আইজি-সহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *