টাটা-র অন্দরের বিরোধ নিয়ে তোপ রাহুলের

Spread the love

Tata Group: টাটা সন্স এবং টাটা ট্রাস্টসের মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের মাঝে এবার মুখ খুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রকে তোপ দেগে তাঁর অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচনা করেছেন দেশের শিল্পপতিদেরও। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এর জবাবে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ও আইনি বিষয়গুলোকে রাজনীতিকরণ করার এবং ভারতীয় শিল্পের প্রতি অবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, টাটা গোষ্ঠীকে কার্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, ব্যবসায়ীরা আর কত দিন চুপ করে থাকবেন? তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এক্স হ্যান্ডেলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা লেখেন, ‘টাটাকে অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ কোনও ব্যবসায়িক নেতারই একটি শব্দ উচ্চারণ করার সাহস নেই। আপনারা আর কতদিন চুপ করে থাকবেন? যতক্ষণ না তারা আপনাদের পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়?’ রায়বরেলি-র সাংসদ জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বিজেপির কোনও ‘খেলনা’ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এসব করি না। আমরা এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করব।’

রাহুল গান্ধী এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন নির্মলা সীতারমন। তাঁকে প্রতিটি বিষয়কে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, বাণিজ্যিক ও আইনি বিষয়গুলোকে হালকাভাবে ‘অপরাধমূলক’ বলে আখ্যা দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে নির্মলা সীতারমন লেখেন, ‘বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী, আপনাকে অনুরোধ করব প্রতিটি বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া, বাণিজ্যিক ও আইনি বিষয়গুলোকে অনায়াসেই অপরাধমূলক বলে দাগিয়ে দেওয়াটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী বারবার ভারতীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের অর্জনের সমালোচনা করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাহুল গান্ধী কী ব্যবসায়িক নেতাদেরও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অবিশ্বাস ছড়াতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছেন?

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে আপনাদের দল ‘লাইসেন্স-কোটা রাজ’-এর দমবন্ধ করা পরিবেশে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহকে পিষে মেরেছিল এবং কোটি কোটি ভারতীয়কে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।’ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতির তুলনা টেনে নির্মলা সীতারমন বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতীয় শিল্পকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উৎস হিসেবে গুরুত্ব দেয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নীতিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে উদ্যোগের বিকাশ ঘটে, শিল্পকে সহায়তা করা যায় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা যায়।’ তিনি যোগ করেন যে, শিল্পকে সহায়তা করা, কৃষকদের শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, নেতা, সরকার- সবারই সমান দায়িত্ব রয়েছে। অর্থমন্ত্রী রাহুল গান্ধীকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ভিত্তিহীন অভিযোগ না তুলে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিচার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবিধান সব নাগরিকের ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয় এবং আদালতগুলো সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী, তাঁর দল এবং অতীতে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রীরা বিচার বিভাগকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, ‘তাই রাহুলজি, সব জায়গায় ভূত দেখা থেকে বিরত থাকুন।’

কী নিয়ে টাটা গোষ্ঠীর বিতর্ক?

টাটা সন্সের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েই মূল বিতর্ক। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২৬ অক্টোবর টাটা সন্সের কোম্পানি সেক্রেটারি ও গ্রুপ কর্পোরেট সেক্রেটারি সুপ্রকাশ মুখোপাধ্যায়কে লেখা একটি চিঠিতে নোয়েল টাটা অভিযোগ করেন, ১৭ সেপ্টেম্বর পরিচালন পর্ষদের বৈঠকে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব তোলা হলেও বৈঠকের নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। নোয়েল টাটার আরও অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাঁকে বৈঠকের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, চূড়ান্ত কার্যবিবরণী এবং প্রস্তাবের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়া হয়নি।

তাঁর দাবি, টাটা সন্সের সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী পুনর্নিয়োগের জন্য যে নির্বাচন কমিটি গঠন এবং সুপারিশের প্রয়োজন ছিল, তা যথাযথভাবে করা হয়নি। প্রয়োজনীয় পরিচালকদের সম্মতিও নেওয়া হয়নি বলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া, বৈঠকের কার্যবিবরণী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা এবং রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজের কাছে নথি জমা দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন নোয়েল টাটা। তাঁর মতে, বৈঠকের রেকর্ডিং প্রকাশ না করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *