ট্রাম্পের দেশ আমেরিকার বুকে হিন্দু মন্দির ঘিরে হামলার ছকের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলেছে দিল্লি। অ্যালেকজান্দ্রোস পাপোরাকিস নামের এক ১৯ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে আমেরিকার ইলিনয়ে এক হিন্দু মন্দিরে হামলার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। পাপোরাকিসকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে মার্কিন পুলিশ। ইলিনয়ে বন্দুকের নিশানায় হিন্দু মন্দির টার্গেট করে গণহত্যার ছক ওই ১৯ বছরের যুবকের ছিল বলে অভিযোগ। এদিকে, এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে ভারত।
ভারতের তরফে বিদেশমন্ত্রক বলেছে, ‘ইলিনয়ের অরোরা এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর কথিত ষড়যন্ত্রের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই কথিত ষড়যন্ত্রের হিন্দু-বিরোধী ও বর্ণবাদী প্রকৃতি, যার মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে হিংসার উল্লেখও রয়েছে, তা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।’ এদিন বিদেশমন্ত্রকের তরফে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা আশা করি মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ দিল্লি সাফ বলছে, ‘এই ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী বিদ্বেষ এবং ভারত-বিরোধী ঘৃণা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও বেশি সতর্কতা, ঘৃণাপ্রসূত সহিংসতার প্রতি শূন্য সহনশীলতা এবং দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।’
এদিকে, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পাপোরাকিস গণ-গুলি চালানোর একটি কথিত পরিকল্পনার রূপরেখা সম্বলিত একটি নথি এবং একটি রাইফেল, রাইফেলের ম্যাগাজিন, বডি আর্মার ও অন্যান্য কৌশলগত সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক জিনিসের ছবি শেয়ার করেছিল অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছে। ইতিমধ্যেই পাপোরাকিসের বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। এপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে পাপোরাকিস কর্মক্ষেত্রে প্রকাশ্যে নিজেকে একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তার সহকর্মীদের বলেছিলেন যে তিনি ভারতীয়দের হত্যা করার জন্য অধীর আগ্রহে তিনি অপেক্ষা করছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তাঁর সহকর্মীদের এও বলেছিলেন যে, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ‘একটি বিশেষ দিন’ হতে চলেছে।
