ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ছবি প্রকাশে ভারতীয়দের সতর্কতা দূতাবাসের

Spread the love

Saudi Arabia: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হল। ইরানের অন্যতম সহযোগী ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে উত্তপ্ত সৌদি আরব। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা জারি করল ভারত। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় তা প্রকাশ ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

রবিবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের জারি করা নির্দেশিকাটি পুনরায় শেয়ার করে সে দেশের ভারতীয় দূতাবাস জানায়, ‘সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয়দের স্থানীয় নিয়ম ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’ সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ এবং এসবের পতনের স্থানের ছবি বা তথ্য প্রকাশ, প্রচার বা শেয়ার না করার জন্য সতর্ক করেছে। বিভাগটি তাদের এক্স প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছে, এসব কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতে পারে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার কারণে তীব্র দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন বহু ভারতীয় নাগরিক, বিশেষ করে ওমরাহ পালন করতে আসা পুণ্যার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও নিরাপদে দেশে ফেরাতে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জেদ্দা ও মক্কায় পুরোদমে চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম। সেখানে ভারতীয় কমিউনিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় যাত্রীদের মাঝে জরুরি খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রাথমিক সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের ফলে বহু যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই জটিলতা মেটাতে সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখছে ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত সময় অবস্থানের কারণে থাকার জায়গা বা অন্যান্য পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিলে তারা যেন সৌদির টোল-ফ্রি নম্বর ১৯৬৬-তে যোগাযোগ করে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রকের ‘পিলগ্রিম কেয়ার সেন্টার’-এ অভিযোগ দায়ের করেন এবং রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে বাড়তি সহায়তার জন্য সেই নম্বর ভারতীয় কনস্যুলেটের কন্ট্রোল রুমে জানানো যাবে। এদিকে, ফ্লাইট বাতিল এবং টিকিটের টাকা ফেরত বা রিফান্ড পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যা মেটাতে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে কনস্যুলেট। যেসব সংস্থা এখনও ভারতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে, তাদের মাধ্যমে বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করতে ওমরাহ ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হচ্ছে। তবে আসন সংখ্যা ও প্রযোজ্য ভাড়ার ভিত্তিতেই এই টিকিট পাওয়া যাবে। কনস্যুলেট সকল যাত্রীকে দ্রুত দেশে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে নিজস্ব এয়ারলাইন্স ও এজেন্সির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *