পরনে অন্তর্বাস,যৌনবর্ধক ওষুধের পাহাড়!নেপালে আশ্রয় মডেল শ্রদ্ধা দুবের?

Spread the love

Lucknow cafe owner death case: উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ২৭ বছর বয়সি ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এই ঘটনায় শিবা শর্মার পরিবারের অভিযোগের আঙুল উঠেছে তাঁর লিভ-ইন পার্টনার তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি এবং ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বেশ কয়েক মাস ধরে শিবা শর্মাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল। তাঁকে ব্ল্যাকমেল ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার পরই শ্রদ্ধা দুবে তাঁর বোনকে নিয়ে নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে তদন্তে নামতেই এই মডেলকে নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউয়ের হাজরতগঞ্জ এলাকার বালু আড্ডার কাছে গ্রিন অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় শিবা শর্মার। তিনি রেস্তরাঁ ও ক্যাফে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছয়। শ্রদ্ধার এক পরিচিত আদিল ফোন করে শিবার পরিবারের সদস্যদের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার কথা জানান। সেখানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা শিবার দেহ দেখতে পান। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিবার দেহ যখন উদ্ধার হয়, তাঁর পরনে ছিল অন্তর্বাস। ৯ অক্টোবর রাতে শ্রদ্ধার ফ্ল্যাটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং চারতলা থেকে শিবা কী ভাবে পড়ে গেলেন, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। শুধু তা-ই নয়, ফ্ল্যাটে কারা এসেছিলেন, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ফলে শিবা চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, ঝাঁপ দিয়েছিলেন নাকি এটি কোনও পরিকল্পিত খুন, সেই প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে লখনউয়ের বালু আড্ডা এলাকায় শ্রদ্ধার ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে নানা রকমের বিতর্কিত ও যৌন ক্ষমতা বর্ধক ওষুধ, মাদক-সহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, শিব শর্মার মৃত্যুর সময় ফ্ল্যাটে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পারে যে, অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবে শুধুমাত্র দামী উপহার পছন্দ করতেন এবং প্রতি বছর নিজের ফোন নম্বর পরিবর্তন করতেন। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। তাদের ছবি দেখিয়ে প্রভাবিত করতেন শ্রদ্ধা। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, শ্রদ্ধা তাঁর বোন রশ্মির সঙ্গে নেপালে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছিল তার এক পুরোনো পরিচিত, আমির ও দানিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে ঘটনার দিন আমিরকে ফোন করে শ্রদ্ধা রুপাইদিহা সীমান্তে নামিয়ে দিতে বলেন। এরপর আমির তার নিজের সুইফট ডিজায়ার গাড়ি চালিয়ে কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারে যায়। সেখান থেকে দুই বোনকে নিয়ে নেপাল সীমান্তের কাছের এলাকা রুপাইদিহায় নিয়ে যায়। পুলিশ সন্দেহ করছে যে, দুই বোন এই পথ ধরেই নেপালে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন।

সোমবার বিকেলে হাজরতগঞ্জ পুলিশের একটি দল শ্রদ্ধার দীর্ঘদিনের বন্ধু আমিরের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। জানা যায় যে, আমির ইলেকট্রনিক জিনিস কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে শ্রদ্ধা তার কাছ থেকে টাকা ধারও নিয়েছিল, যার ফলে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পুলিশের আরেকটি দল সীতাপুরে অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবের ড্রাইভার দানিশের বাড়িতেও অভিযান চালায়, কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। একটি দল রায়বরেলিতে শ্রদ্ধার বোনদের বাড়িতেও গিয়েছিল। বেশ কয়েকজন বিল্ডার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি পুলিশের নজরে রয়েছেন। সন্দেহ করা হচ্ছে যে তারা শ্রদ্ধাকে সাহায্য করেছিলেন। চিকেন ব্যবসায়ী ও ক্যাফে মালিক শিব শর্মা শুক্রবার রাতে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তার অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মারা যান।

শিব শর্মার মা রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ, শ্রদ্ধা তাঁর রাজনৈতিক ও উচ্চস্তরের প্রভাব খাটিয়ে শিবকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেল এবং মানসিক নির্যাতন করছিলেন। শিবের পরিবার আরও দাবি করেছে, মৃতদেহের শরীরে একাধিক মারধরের চিহ্ন ছিল এবং তাঁকে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শিব যখন ওপর থেকে নিচে পড়েন, তখন তাঁর শরীরে কেবল অন্তর্বাস ছিল এবং মুখে লিপস্টিক মাখানো ছিল। শিবের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে, যা থেকে নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্তকারীরা শিবার মায়ের দাবি এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা-সহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শিব, শ্রদ্ধার সঙ্গে এক বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন জানা গিয়েছে। এই হাইপ্রোফাইল মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর জোর দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *