উৎসবের আমেজের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী এবং ধূপগুড়ির পাঁচবারের বিধায়ক বনমালী রায়। বুধবার সকালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান বাম নেতা।
উত্তরবঙ্গের মাটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন বনমালী রায়। তৎকালীন বাম আমলে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় নেতা। ধূপগুড়ি থেকে টানা পাঁচবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। শুধু বন দফতর নয়, রাজ্যের তফসিলি ও আদিবাসী কল্যাণ দফতরের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সভাধিপতির আসনেও বসেন। পাশাপাশি, সিপিএমের জোনাল সম্পাদক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে বাম শিবিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। খবর পৌঁছতেই বুধবার গাদংয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাসভবনে যান স্থানীয় বাম নেতারা। শোকপ্রকাশ করেছেন সিপিএম জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র। প্রয়াত নেতার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন ধূপগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক মমতা রায়ও। দলের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

বাম নেতারা বলছেন, রাজনীতির পাশাপাশি বনমালী রায়কে মানুষ মনে রাখবেন তাঁর সংগঠকসুলভ ভূমিকা এবং জনসংযোগের জন্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ধূপগুড়ির সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি হল বলেই জানাচ্ছেন বাম নেতারা।