শুধু পেশাদারিত্ব নয়, সানি দেওল যে আপাদমস্তক একজন পারিবারিক মানুষ, তার বড় প্রমাণ মিলল বড় পর্দায়। শুক্রবার ‘বর্ডার ২’ মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা যখন সানি পাজির এন্ট্রি দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন, তখনই তাঁদের চমকে দিল ছবির ওপেনিং ক্রেডিট। পর্দায় নিজের নামের জায়গায় তিনি যোগ করেছেন এক বিশেষ পরিচয়— ‘ধর্মেন্দ্র জি কা বেটা’ (Dharmendra ji ka beta)।
বিগত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বলিউড লেজেন্ড ধর্মেন্দ্র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর এটিই সানির প্রথম বড় রিলিজ। সানি সবসময়ই বলতেন যে, ধর্মেন্দ্রর বিখ্যাত যুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘হকিকত’ (১৯৬৪) দেখেই তিনি ‘বর্ডার’-এর মতো ছবি করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। এবার বাবার সেই উত্তরাধিকারকে সম্মান জানাতেই এই অনন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা।
পর্দায় যখন প্রথম দেখা গেল: ছবির টাইটেল কার্ডে যখন বড় বড় হরফে লেখা উঠল— সানি দেওল (ধর্মেন্দ্র জি কা বেটা), তখন সারা প্রেক্ষাগৃহ সিটি আর করতালিতে ফেটে পড়ে। নেটিজেনরা বলছেন, “সানি দেওল যতই বড় সুপারস্টার হোন না কেন, মনেপ্রাণে তিনি আজও সেই অনুগত পুত্র।” এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এই দৃশ্যের ছবি পোস্ট করে এক অনুরাগী লিখেছেন, “এর থেকে সুন্দর শ্রদ্ধার্ঘ্য আর কিছু হতে পারে না।”
প্রথম দুদিনে বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৬৯ কোটি টাকা। আয়ের নিরিখে প্রথম দিন রণবীরের ধুরন্ধরকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এই ছবি।

ধর্মেন্দ্রর শেষ ছবি ছিল ‘ইক্কিস’, যা এ বছরের পয়লা জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে। বাবার শেষ ছবি মুক্তির মাস কাটতে না কাটতেই ছেলের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধ আর দেশপ্রেমের বাইরেও ‘বর্ডার ২’ এখন হয়ে উঠেছে এক বাবা ও ছেলের আত্মার সম্পর্কের গল্প। সানি দেওলের এই ক্ষুদ্র কিন্তু গভীর পদক্ষেপ টলিউড থেকে বলিউড— সব মহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
টি-সিরিজ ফিল্মস এবং জেপি ফিল্মসের ব্যানারে ভূষণ কুমার, কৃষাণ কুমার, জেপি দত্ত এবং নিধি দত্ত প্রযোজনা করেছেন এই ছবি। এটি ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পটভূমিতে সেট করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন সানি, বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, আহান শেঠি, মোনা সিং, সোনম বাজওয়া, আনিয়া সিং এবং মেধা রানা।