বাংলায় মৃত্যুমিছিল অব্যাহত! দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃদ্ধের পরিণতিতে হতভম্ব

Spread the love

এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে বাংলায়। এরমধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত শুনানির প্রবল মানসিক চাপ ও শারীরিক ধকল কী কেড়ে নিল আরও এক বৃদ্ধের প্রাণ? বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মির্জাপুর গ্রামে ফয়েজদ্দিন সরকার (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। পরিবার ও শাসক দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম কাটা যাওয়ার আতঙ্ক এবং শুনানি কেন্দ্রের অব্যবস্থাই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। যদিও এ নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিকট কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ফয়েজদ্দিন সরকারের কাছে সম্প্রতি একটি শুনানির নোটিস আসে। নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার ছিল তাঁর নির্ধারিত শুনানির দিন। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি তপন ব্লক অফিসে হাজিরা দিতে যান। অভিযোগ, সেখানে প্রখর রোদে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ফয়েজউদ্দিন সরকারকে। শুনানি সেরে বাড়ি ফেরার পরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানতে পেরেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তপন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর রাতেই গঙ্গারামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে ভর্তির ঘণ্টা দেড়েক পর তিনি মারা যান।

পরিবার বলছে, জন্মসূত্রে ফয়েজদ্দিন সরকার ভারতীয়। প্রথমে বাড়ি ছিল রামরামপুরে। ২০০২ সালেই তিনি পাশের গ্রাম মির্জাপুর জামলাবাদে চলে আসেন। তিনি ধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিদাতাও ছিলেন। ২০০২-এর আগে একাধিকবার ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু কী করে নাম বাদ গেল তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। পরিবারের আরও দাবি, স্থানীয় স্কুলে পড়াশুনার সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পড়েছিল। এসআইআরের আতঙ্কেই তিনি মারা যান বলে পরিবারের অভিযোগ। মৃতের ছেলে ওয়াসিম সরকারের দাবি, ‘বাবা আগে থেকেই চিন্তায় ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।’ এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তপন ব্লকের বিডিও রাজীব কুমার তরফদার জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও বিস্তারিত কিছু জানেন না। জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তালও জানিয়েছেন, এ নিয়ে কোনও অভিযোগ তাঁরা পাননি। এদিকে, বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের তপন ব্লক সভাপতি সুব্রতরঞ্জন ধরের দাবি, ‘কেন্দ্রে বিজেপি সরকার এসআইআর-এর নামে বাংলায় যে হয়রানি চালাচ্ছে, এটি তারই ফল। এই হয়রানির শিকার হয়েই এক বৃদ্ধ প্রাণ হারালেন।’ অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায় বলেন, ‘যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। তবে সম্ভবত বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে।’

প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *