বিডিও অফিসে ভাঙচুর-আগুন! পুলিশের আক্রান্তে কঠোর কমিশন

Spread the love

এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক বিতর্ক হয়েই চলেছে। শাসকদল ক্রমাগত বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনারকে দোষারোপ করেই চলেছে। খসড়া তালিকা প্রকাশিত হলেও অনেকের নথিতে নানা ভুল তথ্য ধরা পড়েছে, যার জেরে শুরু হয়েছে এসআইআর শুনানি। কিন্তু সেক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছে। আর এই আবহে ঘটল আরও এক বিপদ। ফরাক্কার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া। এমনকী পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন।

ঘটনার সূত্রপাত

এসআইআর ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত আগেই। বুধবার ফরাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে। তারপরেই বৃহস্পতিবার একই ছবি ধরা পড়ে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায়। পুলিশ সূত্রে খবর, এসআইআর শুনানির নামে হয়রানির প্রতিবাদে এদিন বিডিও অফিসের অদূরে কাহাটা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন কয়েকজন। যাঁরা এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন, মূলত তাঁরাই ছিলেন বিক্ষোভকারীদের দলে। তার জেরে ব্যহত হয় যান চলাচল। তীব্র যানজট হয়। সেই অবরোধ হটাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি শুরু করে। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় ইসলামপুর থানার আইসি-র। পুলিশকে কার্যত কোণঠাসা করে বিডিও অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দমকলের ইঞ্জিনকেও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ হওয়ায় এসআইআর সংক্রান্ত জরুরি ডেটা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

ঘটনার পরই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। পুলিশ ও বিডিও অফিসের উপর এই ‘সংগঠিত হামলা’র ঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচনি আধিকারিক (ডিইও) তথা জেলাশাসককে দ্রুত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাদের স্পষ্ট বার্তা, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ থাকলে তা জানানোর নির্দিষ্ট মঞ্চ রয়েছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তলব করা হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট। এদিকে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ নামানো হয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পরপর দুটি ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

ফারাক্কা-কাণ্ড

অন্যদিকে, ফারাক্কা ঘটনার পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) কড়া নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক তথা ডিইও-দের। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডিইও-দের নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনও শুনানি কেন্দ্র বদল করা হবে না। পাশাপাশি, ডিইও-দের তিনি মনে করিয়ে দেন,‘আনম্যাপড’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ মামলাগুলির নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নিতে হবে ডিইও-দেরই। ইআরও এবং এইআরও-রা ‘অন্যান্য’ বিষয়গুলি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে কোনও ভাবেই কমিশনের নির্দিষ্ট করা শুনানি কেন্দ্র স্থানান্তর করার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। তা হলে বিষয়টি গুরুতর ভাবে দেখবে কমিশন। বুধবার ফরাক্কায় বিডিও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে ফারাক্কায়। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় শুনানি। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দায়ের হয় এফআইআর। ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন দু’জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *